ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়ায় চলছে ইলিশের চরম আকাল ৷৷ জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম বিপাকে জেলেরা

এইচ এম নাহিদ ৷৷ প্রতি বছরেই ভরা মৌসুমে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পড়বে এ আশায় বুক বেঁধে থাকেন ভোলার জেলেরা। কিন্তু এ বছর শ্রাবণের শেষেও ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশের দেখা নেই। চলছে ইলিশের চরম আকাল। বর্ষায় নদীতে ইলিশ বাড়ার পরিবর্তে এবার কমতে দেখা গেছে। পাল্টে গেছে নদীর আচরণ। ভরা মৌসুমেও ইলিশ সংকটের কারণে জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভোলার তিন লক্ষাধিক জেলে।

চলমান এ সংকট উত্তরণে ইলিশের আশায় মেঘনার তীরে দোয়া মোনাজাতের ও আয়োজন করেছেন জেলেরা। তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না দেখে চরম হতাশায় দিন পাড় করছেন তারা।
মেঘনার পাড়ের তুলাতলি,নাছির মাঝি, স্লুইসগেট, ধনিয়া সহ অর্ধশতাধিক মাছঘাটে চলছে হাহাকার। দু’এক ঝুড়ি মাছ ঘাটে বেচা-কেনা হলেও নেই আগের মত হাকডাক।

মাছ ব্যবসায়ী মো. মিলন মাঝি জানান, সাধারণত বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরামৌসুম। কিন্তু এবার চার মাস পেরিয়ে গেলেও নদীতে তেমন ইলিশ নেই। জেলেরা প্রতিদিন খালি হাতে ফিরে আসছেন। মাঝেমধ্যে দু-চারটি মাছ পেলেও তা বিক্রি করে ট্রলারের খরচই ওঠে না। জেলেরা ধারদেনা করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। মহাজনের পাওনা টাকা ও ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছেন।

২০ বছরের অভিজ্ঞ জেলে মো. শহিদুল মাঝি বলেন, নদীতে একবার গেলে খরচ পড়ে কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। গতরাঁতে নদীতে নেমে তিনটি ইলিশ পেয়ে মাত্র ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এতে জেলেরা ভাগে পেয়েছে মাথাপিছু মাত্র ১০০ টাকা।

১০ বছর ধরে মেঘনায় মাছ ধরা জেলে মো. জুয়েল মাঝি জানান, রোববার ট্রলারে ৪ হাজার টাকা খরচ করে নদীতে গিয়ে পাইছি একটি বড় ইলিশ ও এক হালি জাটকা । বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, উল্টো ৭০০ টাকা লোকসান হয়েছে।

লিটন মাঝি বলেন, চেয়ারম্যান ঘাটে প্রায় শতাধিক ট্রলার থাকলেও গত দুই বছরে মাছ কমে যাওয়ায় অন্তত ৫০ জন জেলে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আমরা যারা এখনো আছি, তারাও টিকে থাকা নিয়ে চিন্তায় পরছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইলিশের প্রজনন মৌসুম ও অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া নদীতে ডুবোচরের কারণে পানির রং ঘোলাটে থাকায় ইলিশ নদীতে ঢুকছে না। তবে সামনের পূর্ণিমায় পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।