জীর্ণ ঘরে জীবনযুদ্ধ: শাজাহান মিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট৷৷ জীবনযুদ্ধে স্ত্রীর সাথে একা লড়াই করছেন শাজাহান মিয়া (৬৫)। তিনি ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রজ্জব আলী সরদার বাড়ির বাসিন্দা। বিগত এক দশক ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত এই বৃদ্ধের জীবন কাটছে চরম অভাব আর কষ্টে।
মাথার উপর জরাজীর্ণ টিনের ছাউনি, দেয়ালে পোড়ানো কাঠ, একচিলতে ঘরই তার আশ্রয়। ঝড়-বৃষ্টিতে ঘর পানিতে ডুবে যায়, ঠাঁই নিতে হয় অন্যের ঘরে। নেই কোনো স্থায়ী আয়, নেই সরকারি সহযোগিতা। দিনের পর দিন কেবল এলাকাবাসীর সহানুভূতির উপর ভরসা করেই বেঁচে আছেন তিনি।
রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালের খাবার হিসেবে পান্তা ভাত আর পোড়া মরিচ খাচ্ছেন তিনি। কোনো প্রোটিন বা পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা, তার একটুকরো খাটও নেই বসবাসের জন্য। এই দৃশ্য যেন সমাজব্যবস্থার ব্যর্থতার নগ্ন প্রকাশ।
স্থানীয়রা জানান, শাজাহান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। কারও কাছ থেকে একবেলা খাবার, কারও কাছ থেকে ওষুধ – এভাবেই চলেছে তার বেঁচে থাকা। কিন্তু এটি তার প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।
শাজাহান মিয়া বলেন, “আমি দশ বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। অনেককে সরকার ঘর দিয়েছে শুনি। আমারও যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা হতো, তাহলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো।”
ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মিজান জানান, “তিনি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় আছেন। আমি তার জন্য বয়স্ক ভাতা করে দিয়েছি এবং যতটুকু পারি, সহযোগিতা করছি। চেষ্টা করবো আরও সহায়তা করার।”
এখন সময় এসেছে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের এগিয়ে আসার। স্থানীয়রা জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছেন, যেন শাজাহান মিয়ার জন্য একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা, চিকিৎসা ও ন্যূনতম খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। কারণ, এটা কেবল তার প্রাপ্য অধিকারই নয়, মানবতারও একটি অনিবার্য দাবি।
