সর্বশেষঃ

জেলনস্কি কি ঘোড়ার আড়াই চালে পড়লো ?

আন্তর্জাতিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় ম্যারিকার মূল কনসেনট্রেশন মধ্যপ্রাচ্যে।বিষয়টা কেবল এটুকু নয়। বিষয়টা হলো মধ্যপ্রাচ্যে কন্সেনট্রেট করতে ইউরোপ থেকে ডিকনসেনট্রেইটেড হচ্ছে ম্যারিকা। এই যে ইউরোপ থেকে ম্যারিকার কনসেনট্রেশান উঠিয়ে পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যে নিবষ্ট করতেছে এটা কি ট্রাম্পের নিছক পাগলামি নাকি সেই ১/১১ এর মত আইপেকের আরেকটা গভীর ষড়যন্ত্রের ছঁক নাকি মাস্কের গাজা সাজানোর নিছক সখ। আসুন দেখি একটু আলাপ করি।
রাশা ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন সংকট বা শর্টে পরে ইরানের দারস্থ হইছে।ইরান রাশাকে সর্বাতœক সগযোগিতা করে সম্পর্ক গভীর করেছে।রাশার সাথে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি,পারমানবিক চুক্তি এবং এফ ৩৫ নেয়ার চুক্তি করে ফেলেছে ইরান। ঐদিকে ইউক্রেনে পশ্চিমা অস্ত্র বা ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষার ঘাটতি পরলে আমেরিকার অনুরোধের ঢেঁকি গিলে ম্যারিকান প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনকে দিয়ে রাশার রোষাণলে পরতে হচ্ছে ইসরায়েলকে। তাহলে সমীকরণটা কী দ্বাঁড়ালো? সমীকরণটা এই দ্বাঁড়ালো যে রাশা ইউক্রেন যুদ্ধ ইসরায়েলের গলার কাটা হয়ে দ্বাঁড়িয়েছে। এইখানটায় কাজ করছে আইপেক। নয়তোবা যতই ট্রানজেকশনাল হোকনাকেনো পুরো ইউরোপের সাথে ম্যারিকার সম্পর্ক কেমনে ট্রাম্প হুমকির মুখে ঠেলেদেয়? ম্যারিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই একই সুরে কথা বলছেন। এদের সবাই কিন্তু ইসরায়েল পন্হি। এবং এদেরকে আইপেক ফান্ডিং করেছে, স্পন্সর করেছে এবং এদেরকে লবিং করে ট্রাম্প প্রশাসনে ঢুকানো হইছে। আশাকরি এতক্ষণে দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পেরেছেন।
ইসরায়েলের একটা নীতী হলো ভুমি না হারানো। মানে যতই চুক্তিটুক্তি করেন ভুমি দেবে না। মানে এইযে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা দেবেনা, সিনাইর যে অংশ দখল করেছে তা দেবে না। এরকম আরো যা আছে এগুলো ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে একক শক্তি হিসেবে ইসরায়েলকেই থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে ইরানকে কখনোই পারমানবিক শক্তিধর হতে দেয়া যাবে না কিংবা রাশার মত পরাশক্তির নিরেট বন্ধুও হতে দেয়া যাবে না যেখানে রাশা ও ইরান পারস্পরিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে। এই পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তি ইসরায়েলের আগ্রাসন নীতির জন্য খুবই ভয়ংকর। তাহলে এখন করনীয় কী? উ. সোজা। যেকোনো মূল্যে রাশাকে ইরান থেকে সরাতে হবে। এন্ড দ্যাট ইজ ইক্সাক্টলি হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং নাউ। ম্যারিকা এখন জাতিসংঘে রাশাকে ভোট দেয়, রাশার পক্ষে প্রস্তাব করে। আর ঘোড়ার এই আড়াই চালের প্যাচে কমেডিয়ান জেলনেস্কির খেইল খতম।
যাহোক মধ্যপ্রাচ্যে বড়সড় গন্ডগোল বাঁধতে যাচ্ছে কিনা তা অল্প সময়ের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। পরিশেষে বলতে হচ্ছে পারমানবিক বোমা ছাড়া ইরান ও ফিলিস্তিন সহ টোটাল মধ্যপ্রাচ্যের কোনো গতি নেই। কেবল একটা পারমানবিক বোমার সফল পরীক্ষাই পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইসরায়েল নামক শকুনের থাবা গুটাতে বাধ্য করতে।আল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের মুক্তি দিক, মুক্তি দিক নিপীড়িত মজলুম ফিলিস্তিনিদের।

মাকছুদুর রহমান তুহিন
প্রভাষক, ইংরেজি
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল কলেজ।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।