রক্তঝরা দিনগুলি : পর্ব-০৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : ৭১’র ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও দেশের অবিসংবাদিত নেতা ও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের করাগারে বন্দি। ১৯৭২ সালের ৮ জানুরয়ারী বিশ্ব জনমতের প্রবল চাঁপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়া হয়। ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু তার মুক্ত স্বাধীন দেশের মাটিতে পা রাখলেন। রেসকোর্স থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে লাখ-লাখ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে এদিন প্রাণঢালা অভ্যর্থনা জানায়। পরে রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ৭ কোটি বাঙালির বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, স্বাধীন থাকবে।
দেশ স্বাধীণ হবার পর আমি আমার প্রিয় নেতার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। একটি কবিতা লিখে নিয়েছিলাম সাথে করে। দেখা করে ভীরু হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে বললাম, আমি একটি কবিতা লিখেছি। বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে কবিতা পড়ার অনুমতি পেয়ে আমি পড়লাম।-
হে স্বাধীনতা, তুমি আসবে বলে,
যুগ যুগ ধরে আমি তোমার পথপানে চেয়ে থেকেছি
নতুন পৃথিবীর দিক উন্মোচন করে আমি তোমার স্থান দেখে
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে,
কত মা তার চেলেকে হারাল
কত যোন হারাল ভাই
কত কুমারী মেয়ে ইজ্জত হারাল
আমি আজ বলতে লজ্জা পাই
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
কত শত মায়ের অশ্রু
বাতাসে শুকিয়ে আছে
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে
তোমাকে পেয়েছি কাছে
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে
আমি কত শত মেয়েকে রাইফেল ট্রেনিং দিয়েছি
তাদের আত্মরক্ষার তরে,
এরপর কত মুক্তিযোদ্ধা মেয়ে জন্ম নিল
বাংলার ঘরে ঘরে
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে,
কত মনোরমা বীণা পানির
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেছে,
কত ডাক্তার মোক্তার উকিল প্রফেসর বুদ্ধিজীবীদের
বধ্যভূমিতে নিয়ে বেঁেধ হত্যা করল
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে
আমি বনে জঙ্গলে পালিয়ে থেকেছি
থানায় মহকুমায় আর্মির ভয়ে
আমি আত্মরক্ষা করেছি
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে
আমি তোমার পথপানে চেয়ে থেকেছি
বাড়িঘর ছেড়ে, ছেলে মেয়ে ফেলে
আমি মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ দিয়েছি
হে স্বাধীনতা তুমি আসবে বলে।
কবিতাটি শুনে বঙ্গবন্ধু আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেললেন। পরম শ্রদ্ধায়, ভালবাসায় ¯েœহে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, তুই ঠিক লিখেছিস বোন, ঠিক লিখেছিস। (চলবে——)
