সর্বশেষঃ

রক্তঝরা দিনগুলি : পর্ব-০৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার পর আমি ভোলায় চলে এলাম। এখঅনে এসে দেখলাম আমার স্বামী ও সন্তানদের মুখ থমথমে। আমার বাবা এসে বললেন, ঢাকায় যা করেছিস করেছিস। এখন আল্লাহ আল্লাহ কর। কিন্তু আমি কারোও কথা শুনলাম না। না বাবার আদেশ, না স্বামীর উপদেশ। এখানে এক উকিলের বাসায় মেয়েদের একত্র করে রাইফেল ট্রেনিং ও ফাস্ট এইড দিতে লাগলাম। কারণ তখন আমার শুধু মনে ছিল বঙ্গবন্ধুর কথা, আর সব ভুলে গিয়েছিলাম আমি। আমার জীবনের কথা, এমনকি ১১ সন্তানের কথাও চিন্তা করলাম না, শুধু দেশের জন্য।
এদিকে পাকিস্তানপন্থী বাঙালি নেতারা বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধকে কোনো মতেই মেনে নিতে পারলেন না। নির্বাচনে জয়লাভের পরও পাঞ্জাবিরা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দেওয়ার ঘটনা এবং ২৫ মার্চের পর নির্বিচারে গণহত্যা, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের ঘটনার পরও অধ্যাপক গোলাম আযম, নুরুল আমীন, পীর মোহসেন উদ্দিন, এ এস এ সোলায়মান, ফজলুল কাদের চৌধুরী, হামিদুল হক চৌধুরী, খান এ সবুর, মোহন মিয়া, মতিউর রহমান নিজামী অনেকেই টিক্কা খানের সাথে দেখা করেন এবং ১০ এপ্রিল পাকিস্তানকে সমর্থন ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে বক্তৃতা দেন। জামায়াত শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাই করেনি, ‘রাজাকার’ ও ‘আল বদর’ নামের ২টি বাহিনীও গড়ে তোলে। এরা পাকিস্তানি সৈন্যদের পথঘাট চিনিয়ে দিত এবং মুক্তিযুদ্ধের সাথে সংশ্লিষ্টদের ঘরে নিয়ে হত্যা করত।
এদিকে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করেন এবং নিজেদের হাতে অকুতোভয়ে অস্ত্র তুলে নেন। কেউ কেউ পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে গিয়ে, কেউ কেউ দেশের ভেতরে থেকেই ট্রেনিং গ্রহণ করেন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে মুক্তিবাহিনী পাকবাহিনীর উপর সাঁড়াশি আক্রমন চালায়। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর শুরু হয় পাক-ভারত যুদ্ধ। ওই দিন রাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনী চতুর্দিক দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতীয় বাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয় শুরু করে লড়াই। মুক্তিবাহিনী এবং মিত্রবাহিনীর অগ্রাভিযানে একের পর এক পতন ঘটে পাকিস্তানী সেনা ঘাটির। ১৩ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়া গোটা বাংলাদেশ মুক্ত হয়ে যায়।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।