পানি সংকট, ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে থাকলে ভূ-পৃষ্ঠ দেবে যাওয়ার শঙ্কা

ডেস্ক রিপোর্ট ॥ রাজধানীতে আবারও দেখা দিয়েছে পানির সংকট। মিরপুর, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, আদাবরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজ। ঢাকা ওয়াসা ৭০ ভাগ পানি উত্তোলন করে ভূগর্ভ থেকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট কাটাতে ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন যেন আর বাড়ানো না হয়। পাশাপাশি জলাধার বাড়ানোর তাগিদও দিয়েছেন তাঁরা। প্রতি বছর জুলাই আগস্টে বাড়ে গরমের তীব্রতা। এ সময়ের পর থেকে কয়েক মাস দেখা দেয় পানির সংকট। এমন পরিস্থিতি রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায়। রাজধানীর মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়ার একটি ব্যাচেলর মেসে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত পানির সংকট থাকায় বিপাকে পড়েছে এখানকার বাসিন্দারা।
মেসের সদস্যরা বলছেন, পানির অভাবে চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। চার দিন ধরে গোসল নেই, রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিনই বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে। বাসার পাশের বাড়ি থেকেও পানি আনার কোনো সুযোগ নেই। কারণ পাশের বাড়িতেও একই অবস্থা। শুধু মিরপুর নয়, পানির সংকট দেখা দিয়েছে আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, আদাবর, মালিবাগ, জুরাইন, নিউ মার্কেট এলাকাতেও। মোটর দিয়ে টেনেও পাওয়া যাচ্ছে না পানি।
সেখানকার বাড়ির মালিকেরা বলছেন, ভাড়াটিয়ারা কেবল বাড়িওয়ালাদের কাছেই পানি চান। কিন্তু বাড়িওয়ালারাও তো এখানে অসহায়। লাইনে যে পানি নেই এটা তো কাউকে বোঝানো যায় না। প্রায় দুই মাস রাত দেড়টা থেকে ২টার দিকে পানি আসে। পানির সংকট নিয়ে ওয়াসার একাধিক কর্মকর্তাকে টেলিফোন করা হলেও কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
ঢাকায় দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ২৬৫ কোটি লিটার। এর প্রায় ৭০ ভাগই ভূগর্ভস্থ থেকে সরবরাহ করে ওয়াসা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা জরুরি। না হয় শঙ্কা আছে ভূপৃষ্ঠ দেবে যাওয়ার।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে তুলতে যদি লেয়ারটা নিচে নেমে যায় তাহলে এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে ভূমিধসের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। সামান্য ভূমিকম্প হলেই এ ঝুঁকি বেড়ে যায়। পানির সংকট দূর করতে জলাধার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
