মধ্যরাত : পর্ব-২৭৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সেদিন আর কোন কথা হল না। অর্কিড আর হেমন্ত চলে গেল। উমা ওদের খাওয়ার জন্য অনেক সাধ্য সাধনা করল। কিন্তু অর্কিডের মন ভাল না বলে হেমন্ত চলে গেল। আমি দম ধরে ছিলাম, পৃথিবীতে এত অত্যাচার, অনাচার, অবিচার, বিশেষ করে পুরুষরা নারীদের উপর এরকম জোর জুলুম, মারপিট, যৌতুক এর দাবীর ঘোড় দৌড় চালিয়ে যাচ্ছে। খেয়াল খুশি মত, স্ত্রীর প্রতি কৃত্তিম ভালবাসা প্রয়োগ করে ছলনার মুখোস পড়ে বসে আছে। কতদিন এরকম চলবে, এ খেলা ? এ বিংশ শতাব্দির যুগে যতই ছেলে মেয়ে শিক্ষিত হচ্ছে, ততই বাবা মায়ের টাকা থাকছে, ততই তাদের টাকার লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে তাদের অবনতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নারী হত্যার প্রথম যজ্ঞ। একটা মেয়েকে অত্যাচার করা, বা একটা মেয়েরে আর্তচিৎকার একটা মেয়ের নরকীয় যন্ত্রণাই বুঝি তাদের আনন্দের লহর। বাংলাদেশে খবরের কাগজগুলো খুললেই দেখি, স্বামীর হাতে স্ত্রীর জীবন নাশ। হয় পিটিয়ে মারে, না হয় এনড্রিন মুখে ঢেলে খাইয়ে মারে, না হয় গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। ওঃ ভাবতেও গা শিউরে আৎকে উঠি। আজ লজ্জায় যেন আমি মাথা উচু করে কথা বলতে পারি না।
মেয়েরা যে কিছু অঘটন ঘটায়না এমন কথা আমি লিখছিনা। তবে পুরুষের চেয়ে সংখ্যায় ঢেড় ঢেড় কম। হিংসা-প্রতিহিংসা আনে। যে গাধা, সে সব সময় মাথা নীচু করে ঘাস খায়, মাঝে মধ্যে মাথা উচু করেও দেখে। হে ভগবান তুমি-ত সবই দেখ, সবই জান, তবু পৃথিবীতে নারী অত্যাচারের লেলিহান শিকা তুমি থামাও। নিরাশ্রয়া নারী, অসহায় নারী, নির্যাতিত নারী, জাতিকে তুমি শক্তি দাও, নিজকে রক্ষা করার। পৃথিবীতে তুমি আদম ও হাওয়াকে পাঠিয়েছিলে সাথি করে স্বামী-স্ত্রী রূপে। সেই থেকে বন্ধু হয়ে, সাথী হয়ে, যুগে যুগে স্ত্রী হয়ে, নারী আসছে এ সংসারে। নারীর আরেক নাম স্বর্গাদপী গরিয়সী। ভগবান বলেছিলেন, হে মানুষ আমি যদি আমার পর কাকে প্রণাম করতে বলতাম, তবে তোমার মাকে প্রণাম করতে বলতাম। মায়ের পায়ের তলে বেহেশত।
যত চিৎকার করি, যত আত্মহুতি দেইন, ততদিনও কিছু হবে না। যতদিন না এ নরপশু যুগের অবসান হবে। বার বার একটা অজানা স্বপ্ন আমার মনকে ছুয়ে গেল। একদিন যথন তুমি থাকবে না, আমি থাকব না, কেউ থাকবে না অন্য মানুষ আসবে, পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে যাবে। খুব সখ ছিল পরের শতাব্দটা দেখে যাব, কতই বা দূর সেই একদিন ঘন ঘন তোপধ্বনির ভিতর পুরুষের হাতে এই নারী যজ্ঞের অবসান হয়ে নতুন বিংশ শতাব্দী আসবে, আমি যেন মনষ চক্ষে দেখতে পাই, তাহা কত আলোকজ্জল, কত আনন্দময়, হে অনাগত যুদ তোমার জয় হোক।
(চলবে——-)
