সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-২৭৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : তাড়াতাড়ি ফোনের রিসিভার হাতে নিয়ে বিশ্বজিতের কাছে ক্ষমা চেয়ে কচ এর ছেলে হবার শুভ সংবাদ জানালাম। ওনি শুনে খুশীতে ফেটে পড়লেন। ওর খুব আদরের ছোট ভাই। মাধুরীর আদরের ছোট দেবর। বললাম বিশ্বজিতৎকে, দোলার শরীর খারাপ থাকায় প্রায় জমে মানুষে টানাটানি, সে জন্য বড় বিপদে ধৈর্যহারা হয়ে পরে আপনাদের জানাতে দেরী হল। কুসুমকে জানালাম ফ্লোরিডায়, বেচারা আজও সন্তানের জননী হয়নি। ওরা শুনে কত উৎফুল্ল হল। একটি নবীন ছেলের আগমনে সকলের খুশীর বার্তা, খুশীর ঝলমল দিনগুলি যেন কোন অনির্দিষ্ট দিনের আনন্দ বহন করে আনে শুভ আশীষের মত।
এবার একটি মুখ মনের আনাচে-কানাচে বার বার উকি দিল। সে ডোরা, আমার ডোরা। ওকে ফোন করলাম, জান ডোরা- দোলার ছেলে হল; মেটানিটিতে আছে। ডোরা শুনে হেসে উঠল আনন্দে ও দমবন্ধ হবার জোগার। বলকি প্রশান্ত ? সেদিনের সেই ছোট্ট দোলা, আজ মা হল ? সত্যি ? বলল- প্রশান্ত ছেলে কেমন দেখতে ? আমি বললাম- আমার বড় দির মত। ডোরা বলল আমি দেখতে আসব। দোলাকে আমার আদর দিও। তুমি ভাল প্রশান্ত, চিঠি দাও না, ফোনও কর না, আজ কেমন করে মনে পরল। কোনদিক দিয়ে সূর্য্য উদয় হল তা-ত বুঝলাম না। আমি বললাম- তুমি বুঝি ফোন কর ? খু-উ-ব চিঠি দাও। আমি না দেই, তুমি-ত দিতে পার। ডোরা বলল- নাতনী, উমা, কচ, মেলা কর্তব্য বহন করে দায়িত্ব নিয়ে আছ, আমার বেলা সব ভুলে যাও। ডোরা বলল প্রশান্ত- সমুদ্রের অতল তলে কি আছে ? জানি না, তবু এইটুকু জানি যার নীচে আছে এক স্বচ্ছ ও গভীর রাজত্ব। যার কুল-কিনারা পাওয়া যায় না। প্রত্যেকটি মানুষের আশা ও আকাঙ্খা থাকে এক সময় সে এক সুখের রাজত্ব গড়বে। সেই আশা ও আকাঙ্খার কুল-কিনারা থাকে না ঠিক, যেন বিশাল সমুদ্রের গভীর রাজত্বের মত। কিন্তু এক সময় সেই আশা-আকাঙ্খা যখন ভেঙ্গে চুরে যায়, তখন মানুষের আর কিছুই থাকে না। থাকে না কোন স্বপ্ন, থাকে না ভবিষ্যতের আশা, আমি হঠাৎ করে ডোরা এতবড় ফিলওজজির কথা কিছু ধরতে পারলাম না, সে ভীষণ ইনট্যুলেকচুয়ার মেয়ে; ধরতে গেলেও ধরা যায় না। ছুঁতে গেলেও অত ছোঁয়া যায় না। বললাম- ডোরা ফোন রাখি, ডোরা আর কথা বলল না। ভার্জ্জিনিয়ায় তখন সে কি করছিল বুঝলাম না। হয়ত ভার্সিটি থেকে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। হতাশায়, ক্লান্তিতে, বিপন্ন। একাকিত্বের নিরবতায় আসহ্য।
তখন রাত হয়ে আসছিল। অনেক ক্লান্তিতে-শ্রান্তিতে ঘুম যেন আমার রাজ্যের নেমে এল। কিন্তু ঘুমুতে গিয়েও যেন ঘুমুতে পারলাম না। ঘুমত আমার কোন কালে ছিল না। তবু যেন আমার মনে হল আমি একটু ঘুমুব, যেন আমার চোখ দুটু বিশ্রায় চায়। শুয়ে শুয়ে অনেক কথা মনে হল, বিশেষ করে সুশান্তর কথা। ও থাকলে আজ কত ফুর্তি করত। নিজের ঘরে ছেলে-মেয়ে হয়নি এই দোলাকেই কত আপন ¯েœহের চোখে দেখেছে, ভালবেসেছে, আজ দোলার ছেলে দেখে তারই বেশী আনন্দ পাবার কথা ছিল। আমিত চিরদিনে ভবঘুরে, সংসার নেই। ওর সংসার ছিল, বৌ ছিল, ছিল না সন্তান। একটি কচি মুখ দেখার কত সাধ ছিল। যদিও সেকথা মুখে কোন দিন প্রকাশ করেনি, তবু মনে মনে ছিল। আমি একমাত্র পরম বন্ধু হিসেবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। সুশান্তর বহুদিনের সাধ, স্বপ্ন, আকাঙ্খা। ভাবতে ভাবতে চোখ দুটু বুঝে এল, কতক্ষণ আচ্ছন্নের মত ঘুমের রাজ্যে ডুবে গেলাম।

(চলবে———-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।