সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-২৬২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : মিরাবেল এয়ারপোর্ট অনেক অনেক দীর্ঘ লাইন। এ পথ পাড়ি গিয়ে আসতে একটা মস্ত বড় গল্প লিখে ফেলা যায়। যদিও গল্প লিখব না ডাইভ করব। তবে কল্পনার রাজ্যে বেশ এক ঘণ্টা অবগাহন করা যায়। এয়ারপোর্টে এসে দেখি ওমা, দুনিয়ার লোক এসে জড় হয়েছে। মনে হয় কেনিডিয়ানদের কোন একটা পর্ব ছিল। সব সাদার রাজ্যে অনেকক্ষণ ঘোরাফিরা করলাম। তখন লস এঞ্জেলের প্লেনটা মাটিতে নামেনি। কম্পিউটারে আসার সময় উঠে গেছে। বিজ্ঞানের যুগ যন্ত্রে সব কাজ কর্মের শুরু বা শেষ।
আমি একটা চেয়ারে বসে বসে দেখছিলাম এত লোকের মেলা। মানুষ পাখির মত এই আছে, এই নেই। সবাই আসা ও যাওয়ার জন্য বস্ত। হঠাৎ লস এঞ্জেলের প্লেনটা মানিতে নামল। আমি চেয়ার থেকে উঠে রেলিংয়ের কাছে এগিয়ে গেলাম। তখন দোলা ও কচের অনেক দেরী ভিতরে ঢুকতে। আমি নির্নিমেষ নয়নে দোলার আসা পথের দিকে চেয়ে থাকলাম। কখন আসবে, কখন ঢুকবে, হায়রে দুনিয়া। এই মায়াটা একটা নিছক মনের আহুতি। মায়াই মানুষকে সংসারে বেঁধে রাখে, ভালবাসার জনদের জন্য। এই আকর্ষণই মানুষ আর একজনকে টানে।

হঠাৎ দেখলাম দোলা-কচ, এগিয়ে আসছে। দোলার মুখ খানা তেমনি কচি, কোমল; তবে শরীর অনেক ভারী। তা বহন করে এগিয়ে আসতে ওর বেশ কষ্ট হচ্ছে। তবু মুখে মিষ্টি-মধুর স্বলাজ হাঁসিটুকু এখনও নিভেনি। কচও তেমনি যৌবন দীপ্ত উজ্জ্বল ভঙ্গিমায় চল চলায়মান। পুরু ওষ্ঠ যুগল, বাঁকা ভঙ্গিমায় হাঁসির লহর খেলে যাচ্ছে। শরীর এর বাঁধন সুস্থ সবল সু-দৃঢ় কাঠামো এখন যৌবনের তেজে টলমল। ওরা এয়ারপোর্টের আইন-শৃঙ্খলা মেনে নিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে এল। আমিও দু’জনকে এগিয়ে গিয়ে স্নেহ  সম্ভাষণ জানালাম। দোলা আমার পা ছুয়ে প্রণাম জানাল। কচও এগিয়ে তাই অনুসরণ করতে চাইল, আমি বললাম প্রয়োজন নেই; একজনই যথেষ্ট। কচ হেসে উঠল, দোলা একটু মুচকি মুচকি হাসল।
ওদের মাল পত্র নিয়ে গাড়ীতে তুললাম। কচও সাথের জিনিস পত্রগুলি গাড়ীতে তুলে দিচ্ছে। দোলা গাড়ীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকল, আমি বললাম, দোলা গাড়ীতে উঠে বোস। কচ সামনের সিটে বসল এবং বেল্ট বেঁধে ফেলল। গাড়ী ষ্ট্রাট দিলাম। পথে কচ অনেক গল্প করল। চাকরী-বাকরীর গল্প। পথে আসতে নানা লোকের, নানা নানা রকম কথা বার্তার সমালোচনা ও আলোচনা করল। আমি কতক্ষণ হাসলাম, কতক্ষণ কোন কথার উত্তর দিলাম। বা কখনও চুপ করে থাকলাম। দোলা সারা পথে কোন কথা বললনা। দেখলাম চোখ-মুখ কেমন ফুলা ফুলা। মুখে ভীষণ ক্লান্তির ছাপ। তাড়াতাড়ি ড্রাইভ করতে চাইলে কি হবে পথে সিগন্যাল আছে, তারপর আবার অফিস ছুটির কারও বাস গুলির লাইনে পাড়ে গেলেই হল, পড়েই গেছি। এখন খুব ধীরে ধীরে গাড়ী চালাচ্ছি, কখন থেমে যাচ্ছি। আজ সকাল বেলা যে কার মুখ দেখে উঠেছি, এখন মহা মুস্কিলে পরে দেছি, না পারি সামনে যেতে; না পারি পেছনে যেতে।

(চলবে——)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।