শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভোলা জেলার পুলিশ সুপার
মধ্যরাত : পর্ব-২২৯

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সেদিন হেমন্ত এসে খুব তোর জোড় করল বাড়ী থেকে ওর মায়ের চিঠি পেয়েছে। মা ভালো আছে, মাকে লিখেছিলাম; মা তোমার মত এখানে অমনি একজন মা পেয়েছি। সত্যি মাসিমা বলে ডাকব আপনাকে, আর উমাদি ডাকব না। আপনাকে না আমার মায়ের মত লাগে। জানেন যখনি আপনাকে দেখি আমার মা যখন প্রথম বিধবা হন তেমনি করুন, অসহায়, দীনহীন মিনতি ভরা আপনার মত মুখখানা ছিল। চোখ দুটি ছল ছল জল ভরা আমাদের থেকে একটু আড়াল হলেই মা কাঁদতেন। আমরা দু’ভাই সামনে এলই হাতের তালুর পিছন দিয়ে চোখ মুছে ফেলতেন। আমি বড় ছিলাম, বুঝতার কি করব; করবার-ত আমার কিছুই ছিল না। তবু মার কাছে কাছে থাকতাম। আর আজ বহুদূরে চলে এসেছি, মেয়েরা সকলেই মায়ের জাত, তবুও-ত আমার মায়ের আমরা দু’ভাই ছিলাম, কিন্তু আপনার ? আপনার-ত কেহ নেই, না ? না আছে প্রশান্ত দার মত একটি ভাই আছে। উমা বলল, ভাই এসিছিল গেলাম না। দেবরের ছেলে এসেছিল গেলাম না। জীবনের বাকি কটা দিন দাদার কাছে থেকে কাটাতে। আমি জাবি, আমি নিজে না গেলে দাদা আমাকে তাড়িয়ে দেবে না। গয়া, কাশী বৃন্দাবন বড় বড় তীর্থ স্থানের চেয়ে দাদার বাড়ী আমার বড় তীর্থ স্থান। আমি ভাবছি, কদিনের জন্য একটু কাশী গিয়ে বাবা শ্রী নাথের মন্দির দর্শণ করব।
আমি উমার মুখের দিকে আড় নয়নে চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম, কত উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতার হচ্ছিল। হয়ে উঠেছিল উমার পুত পবিত্র মুখ খানা। উমা কোন কলেজ-ইউনিভার্সিটির বড় বড় ডিগ্রীধারী নয়, তবু কথা বলার একটা বড় আর্ট ওর কথার মধ্যে প্রকাশ পায়। সুশান্তর উমার প্রতি ভালবাসা-ত ছিলই, একটা বড় গভীর শ্রদ্ধাও ছিল। উমাকে কোন সময় বকা ঝকা করতে দেখেনি। রূপে-গুনে গুনে ওর সুশান্তর হৃদয় আকৃষ্ট করেছিল। হেমন্ত অবাক হয়ে উমার মুখের কথাগুলি শুনছিল। আমিও অবাক হয়ে উমার কথা চিন্তা করছিলাম সত্যি মেয়েটার একটা বড় ব্যক্তিত্ব আছে। যে ব্যক্তিত্বের জোরে আমার এখানে আপনার দাবী করে রয়ে গেল। আমার কাছে কোনদিন মতও চাইল না, আপন ব্যক্তিত্বে আপন মহিমায় কল্যাণময়ী। নিজের ব্যক্তিত্বকে শ্রদ্ধায় প্রতিষ্ঠিত করল। আমার ¯েœহকে, আমার ¯েœহের ভালবাসাকে বিশ্বাস করে নিল নিজের সরলতা, ও সহজতা দিয়ে। এটুকু বুঝবার মত হৃদয় অনেক মেয়ের নেই, যা উমার আছে। এটুকু বিশ্বাস করার মত মনও হাজার মেয়ের নেই, যা উমার আছে।
আমার যেন কি কাজ ছিল, বেড রুমে ঢুকে ইন্সিওরেন্সের কাগজগুলো দেখছিলাম। কতগুলো প্রিমিয়াম দেওয়া হয় নাই, দিতে হবে বাড়ীর নানাবিধ ঝামেলায় আমার নিজের অনেক কাজ নষ্ট হতে চলেছে। মানুষের জীবনটাই একটা ঝামেলাপূর্ণ। নিরবিচ্ছিন্ন সুখ কেউ কোন দিন পায় নি। আমি হেমন্তকে বললাম, হেমন্ত তোমার মাসীমা বলেন, আমরা বড় একা অনুভব করি। তুমি এসে আমাদের এখঅনে থাক না ? এই বলে ওর মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থকালাম। দেখি হেমন্ত একথা যেন তেমন পছন্দ করছিল না। বলল, আপনার এখানে এসে আবার আপনার অসুবিধা করব। মসিমার কাজ বাড়বে। দূরে আছি, দূরেই থাকি; সেখানে থেকে আপনাদের সাথে আমার সমন্ধ আরো মধুর হবে। তবু আপনি বলেছেন দেখে অনেক ধন্যবাদ।
(চলবে————)
