মধ্যরাত : পর্ব-১৬৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : সুশান্ত উমা পাশের রুমে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিল। ডোরা ঘুরে দেখে এসে বলল, দু’জনে ঘুম যাচ্ছে খুব। আমি বললাম, আমরা দু’জন কি করব ? ডোরা, আমার চোখে চোখ রেখে মিষ্টি করে হাসল। ডোরা আমার হাত ধরে টান মেরে আমাকে শোয় থেকে বসিয়ে দিল। তারপর নিজে কাছে এসে আমার মাথায় ওর কোমনল হাতখানা বুলিয়ে দিল। আমি ওর হাতটা ধরে রাখলাম আমার হাতের মুঠোয়। কি নরম হাতখানা, এই হাতখানা মনে হল কেউ কোনদিন স্পর্শ করে দেখেনি।
হৃদয়ের সব কথা যেন ওর হাতের স্পর্শে সজীব হয়ে উঠল। আস্তে আস্তে যেন আমরা দু’জনে, দু’জনের কাছে নিবিড় থেকে নিবিড়তর হয়ে গেলাম। দু’জনের দুটি অধর আর কোন বাঁধা মানলনা। ঘুনে ধরা সমাজের কোন শৃঙ্খলা মানতে তারা রাজী থাকলনা। পুরোহিতের মন্ত্রপড়ে ঘটা করে বিয়ের পিড়িতে বসার জন্য অপেক্ষা করলনা। বানারসীর ঝলমল রাত, গহনার রুনু শব্দ, শুভদৃষ্টির ওড়নায় ঢাকা মুখ, শত শত লোকের জন্য কেউ অপেক্ষা করে বসে রইলনা। কেউ জানলনা, কেউ বুঝলনা, কেউ দেখল না, এমনকি সুশান্ত উমাও না। সুশান্ত উমা বাথরুমে যাওয়ার শব্দ পেলাম, উমা ¯œানের জল নাড়া চড়ার শব্দ পেলাম। ডোরা আমার কাছ থেকে তাড়াতাড়ি ডাইনিং রুমে ঢুকে পড়ল। বলল উমাদি তোমরা কি খাবে ? খিচুড়ী না ব্রেড ? সুশান্ত বলল, আমরা ব্রেড খাব। আপনার কষ্টের প্রয়োজন নেই। উমা ¯œান সেরে বেড়িয়ে এল। উমা বলল কি ডোরাদি খিচুড়ী খাবেন ? রান্না করি ? সুশান্ত বলল না, থাক উমা ব্রেড খাব। সুশান্ত বলল, উমা দেখত প্রশান্ত কেমন আছে ? কাল সারাদিন গাড়ীতে বসা ছিল।
তখন আমার একটু ঘুম আসছিল, বড় শান্তির একটা ঘুম। অনেক দিন, অনেক বছর আমি এত নিশ্চিন্তে ঘুমুইনি। তখন ও মাথার বালিশটা আমার কোলেই রয়েছে। আমি কিন্তু কানে সব শুনতে পাচ্ছি। উমা এসে উকি দিয়ে আমাকে দেখে গেল। ডোরা ভাল মানুষের মত না জানার ভান করে ডাইনিং টেবিল গুছিয়ে রাখছে। আমার যেন একটু বালিশটা কোলে করে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করছে। উঠতে মন চাচ্ছেনা। তবু আস্তে আস্তে উঠে বসলাম, বাথরুমে গেলাম। হাতমুখ ধুয়ে দাঁত ব্রাশ করে কাপড়-চোপড় চেঞ্জ করে ডাইনিং রুমে খেতে বসলাম। উমা ব্রেড, টোষ্ট করে দিল, ডোরা মাখন, এগিয়ে দিল, লাল টকটকে দু’টো আপেল আমার সামনে এগিয়ে দিল। আমি খেতে খেতে বললাম, সুশান্ত কচ দোলাকে ফোন করনা ? ওদের এখানে আসতে বলনা। সুশান্ত বলল, মিস ডোরার বাড়ী। আমি কেন ফোন করব ? মিস করুক না, ডোরা বলল আমিই করব, কাকেও করতে হবে না। নতুন জামাই নিয়ে আসব, মাছ মাংস ভেজিটেবল ঘরে কিছুই সেরকম কেনা-কাটা করা নেই। শুধু কচ, দোলাকে বললেই চলবেনা। কুসুম তার বরকে বলতে হবে। সুশান্ত হেসে বলল—-
(চলবে—-)
