ঢাবি শিক্ষার্থী মিমো’র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, সহযোগী অধ্যাপক গ্রেফতার
যোগ দিবেন ১০ সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী, আকস্মিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে লঞ্চ চলাচল,
বাঁধা উপেক্ষা করে বরিশালের সমাবেশে ছুটছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

আগামী ৫ নভেম্বর বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপির গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশের দুই দিন আগে থেকেই সেখানে বাস ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ খবরে ২/৩ দিন আগে থেকেই বরিশালের বিএনপির গণসমাবেশে যোগ দিতে ভোলার বিএনপি নেতাকর্মীরা ছুটছেন বরিশালে। যে যেভাবে পারছেন ছুটে চলেছেন বরিশাল। কেউ যাচ্ছেন লঞ্চে, কেউ যাচ্ছেন ট্রলার-স্পিটবোটে চড়ে আবার কেউ যাচ্ছেন সড়ক পথে। গত বুধবার গভীর রাতে ভোলা থেকে বিএনপির প্রায় তিন সহস্রাধিক নেতা-কর্মী বরিশাল গেছেন বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। বিএনপির এসব নেতা-কর্মীরা লঞ্চে, ট্রলার-স্পিটবোটে চড়ে ও সড়ক পথে বরিশাল গেছেন। এ সময় কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাঁধার মুখেও পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে বরিশালের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকে ভোলা-বরিশাল নৌ রুটে চলাচলকারী সব ধরনের যানবাহন বন্ধ হয়ে গেছে। আকস্মিকভাবে নৌ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখনো ভোলায় আটকা পড়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতিসহ বিএনপির বহু নেতাকর্মী। তারা কিভাবে বরিশালের দলের গণসমাবেশে কিভাবে যাবেন তা নিয়ে বেশ চিন্তিত।
বিআইডব্লিউটিএ ভোলার কর্মকর্তা বলছেন, সরকারিভাবে ভোলা-বরিশাল নৌ-রুটে যান চলাচলের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মনিরুল হুদা খোকা মিয়া জানান, তার নেতৃত্বে ওই ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা থেকে বোরাকে চড়ে সড়ক পথে বরিশাল গেছেন বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে। তিনি বলেন, এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের নেতা-কর্মী বেশী থাকায় তাঁরা আর বাঁধা দেয়নি।

জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সোপান জানান, ভোলা থেকে বরিশালের পথে লঞ্চ-ফেরিসহ যাতায়াতের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বরিশালে যেতে বিভিন্নভাবে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। তবুও সেই বাঁধা উপেক্ষা করে তিনি শতাধিক নেতা-কর্মীকে নিয়ে ফেরিতে এবং গাড়িতে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠে বুধবার ভোরে বরিশাল পৌঁছেছেন। এ ছাড়া গত বুধবার রাতে লঞ্চে চড়ে ও ট্রলারে চড়ে ভোলা সদর উপজেলা থেকে বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলাম কায়েদের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ ও তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে রিন্টুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপসহ জেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী বরিশাল গেছেন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লঞ্চ-ট্রলার বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরেও বিভিন্নভাবে ভোলা জেলা থেকে দশ সহস্রাধিক বিএনপি নেতা-কর্মী বরিশালের গণসমাবেশে যোগ দিবেন বলেও আশা করছেন তিনি।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভোলার উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম ভোলার বাণী’কে বলেন, সরকারের তরফ থেকে ভোলা-বরিশাল নৌ-রুটে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। তবে, মালিকের পক্ষ থেকে যদি বন্ধ করে রাখা হয় সেটা তাদের বিষয়।
ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, বরিশালের গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোলা-বরিশাল নৌ-রুটে চলাচলকারী লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোটসহ সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী ভোলায় আটকা পড়েছে। আমি নিজেও বরিশালে যেতে পারিনি। তবুও বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে ভোলা থেকে বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী বিভিন্ন ওয়েতে যে যেভাবে পারছে বরিশালে যাচ্ছে। গত দুই তিন দিন ধরে হাজার হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী বরিশাল যাচ্ছে। বুধবার রাতেও প্রায় ২ হাজার নেতা-কর্মী বরিশাল গেছে। বৃহস্পতিবারও প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী বরিশাল গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার বিএনপি নেতা-কর্মী বরিশাল চলে গেছে। আরও যাবে।

বরিশালে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাঁধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর। তিনি বলেন, ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে বরিশাল যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের হামলায় ইলিশা ইউনিয়ন বিএনপির ৪-৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা ভোলার বাণী’কে বলেন, ভোলা থেকে আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাঁধা দিয়েছে এমন কোন খবর আমরা পাইনি। তবে, বিএনপির নিজেদের ভেতরেই দুইটা গ্রুপ আছে জানিয়ে মজনু মোল্লা বলেন, তারা নিজেরা নিজেরাই হয়তো মারামারি করেছে।
