ঢাবি শিক্ষার্থী মিমো’র ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, সহযোগী অধ্যাপক গ্রেফতার
মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত
মনপুরায় জোয়ারের পানিতে ৪ দিন ধরে পানিবন্দি ২০ হাজার মানুষ

ভোলার মনপুরায় পূর্ণীমার প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় গত ৪ দিন ধরে ১০ গ্রামের ২০ হাজারের ওপরে মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এতে রান্না করতে না পারায় দূর্গত এলাকার মানুষ অর্ধহারে-অনাহারে দিনযাপন করছে। ওই সমস্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা খোঁজ খবর না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে উপকূল জুড়ে। এছাড়াও জোয়ারের পানিতে ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তবে জোয়ারের পানি বেশিদিন স্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমান বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে শনিবার বিকেল ৪ টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের শেষ মাথায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ীবাঁধ উপচে মেঘনার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে নতুন করে ওই এলাকায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। অপরদিকে শনিবার বিকেল ৪ টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে বলে নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর উপসহকারি প্রকৌশলী আবদুর রহমান। তিনি জানান, বাতাসের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে।
দুর্গত এলাকার স্থানীয়রা জানান, ৪ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে বন্দি অবস্থায় রয়েছি। রান্না করতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা অনাহারে দিনযাপন করছে। তবে আজ (শনিবার) পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কোন পর্যায়ের লোক আমাদের খোঁজ খবর নিতে আসেনি।
পানিবন্দি জাহানারা, রহিম ও কুলসুম জানান, গত ৪ দিন ধরে রান্না করতে না পারায় শুকনো মুড়ি খেয়ে রয়েছি। পরিবারের অন্য সদস্যদের উপজেলা সদরে আতœীয়দের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে। তবে জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ নিতে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
* অর্ধহারে-অনাহারে দিন যাপন।
* ৫ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতি।
* বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়ী বাঁধের ক্ষতি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গত বুধবার থেকে শনিবার মেঘনার পানি বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় ৩-৪ ফুট জোয়ারে প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। এতে উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের পূর্ব আন্দিরপাড়, পশ্চিম আন্দিরপাড়, কাউয়ারটেক, ঈশ্বরগঞ্জ, কূলাগাজী তালুক গ্রাম ও হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, সোনারচর, চরযতিন, চরজ্ঞান গ্রাম ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলমনগর ও মাষ্টারহাট এলাকার বেড়ীর বাহিরে ও ভিতরে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে ২০ হাজারের ওপরে মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিভিশন-২ এর উপসহকারি প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, পূর্ণীমা ও বাসাতের প্রভাবে মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হয়ে ৩-৪ ফুট জোয়ারে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে কত কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ক্ষতি হয়েছে তিনি জানাতে পারেনি।
১নং মনপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানত উল্লা আলমগীর জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে তার ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকার বাসিন্দারা। সরকারিভাবে ত্রান না আসায় পানিবন্দি দূর্গত এলাকার মানুষদের দিতে পারেননি। তবে সরকারিভাবে সাহায্য আসলে দেওয়া হবে।
মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, জোয়ারে ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে। তবে জোয়ারের পানি বেশিদিন থাকলে ক্ষতির পরিমান আরও বাড়তে পারে।
মনপুরা উপজেলার দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল-নোমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে সাহায্য এলে ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করা হবে।
