লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলন: ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
এলএসপিদের মাঝে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পিপিই বিতরণ

করোনার মহামারীতে বর্তমান পৃথিবী থরথর করে কাঁপুনি দিয়ে মানবকুলকে বাক্সবন্দি করে রেখেছে। কিন্তু মানব জীবন তো আর স্থবির নয়। নদীর মতো প্রবাহমান এই জীবনকে ক্ষুধার ছটফটানি স্থবিরতা ভেঙ্গে বাইরে নিয়ে আসে। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতা আমাদের শিখিয়ে দেয় কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেও জীবন চালাতে হয়। পরনির্ভরশীল মানব জীবন প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভর করে চলে। ফলে উৎপাদন চলমান রাখতে প্রাণিসম্পদের লালন পালন অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই।
দ্বীপের রানী ভোলায় মহিষের বিশাল চারণভূুমি হওয়ায় এখানে মহিষের খামারির সংখ্যা তুলনামূলক চোখে পড়ার মতো। আর প্রাণিদের নিরলস সেবা দিয়ে যাচ্ছে এমন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারকে করোনার এই থাবা থেকে রক্ষা পেতে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা Personal Protective Equipment (PPE) বিতরণ করে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহায়তায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর Promoting Agricultural Commercialization Enterprises (PACE) প্রকল্পের আওতায় এ পিপিই প্রদান করা হয়।
“উন্নত পদ্ধতিতে মহিষ পালন শীর্ষক ভ্যালুচেইন উন্নয়ন প্রকল্প” ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে (বাউফল ও মনপুরা) মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয়বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক ভ্যালু চেইন উন্নয়ন প্রকল্প এর মাধ্যমে ভোলা ও পটুয়াখালীর আশি জন লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডারকে এই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হয়। এই লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডাররা ভোলা ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছে।
এলএসপি মিরাজ হাওলাদার বলেন, সরকার যখন সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তখনও জরুরি প্রয়োজনে আমাকে খামারিদের কাছে যেতে হয়েছে। প্রচ- ঝুঁকি নিয়ে এখনো কাজ করতে হয়। তাই পিপিই আমাদের কিছুটা হলেও মানসিক আস্বস্ততা দিবে।
সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম) হুমায়ুন কবির বলেন, প্রথম প্রথম করোনার যে আতঙ্ক ছিল তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। তবুও আমাদের সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। আপনাদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টাই এই দ্বীপাঞ্চলে মহিষের ক্রমোন্নতি হচ্ছে। নিজেদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে সবাই মাঠে থাকবেন বলে আশা করি।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, করোনাকালীন আমরা অতি দরিদ্র, হত দরিদ্র লোকদের অনুদান ও খাবার দিয়ে সাহায্য করেছি। আমি বিশ্বাস করি যেকোনো বিপদ সাহসের সাথে মোকাবেলা করলেই তার সমাধান সম্ভব। আপনারা এখন থেকে আগের চেয়েও পুরোদমে মাঠে প্রাণিসেবা প্রদান করতে পারবেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংস্থার পরিচালক (প্রোগ্রাম) হুমায়ুন কবির, প্রকল্পের ভ্যালুচেইন ফ্যাসিলিটেটর (ভিসিএফ) ডা. রাজীব নন্দী ও ডা. মাহমুদুল হাসান।
