ভোলা সরকারি মহিলা কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, দোয়া ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
২০২১ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পর্যালোচনা

২০২১ এর মার্চ মাসে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদসমূহ এর চেয়ারম্যান, মেম্বার পরিষদ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা সফলতা দেখাতে পেরেছেন তার হিসাবের মূল্যায়ন ফুটে উঠবে ভোটের মাধ্যমে। এই প্রসঙ্গে ২০০৯ এর ইউনিয়ন পরিষদ আইনের আওতায় সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে ওয়ার্ড সভা, উন্মুক্ত বাজেট, স্টান্ডিং কমিটি সমূহ কতটুকু সফলভাবে আইন বিধি অনুসরণ করতে পেরেছে তার মূল্যায়নের দাবী রাখে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ হলো সর্বনিম্ন স্তর।
১৯৭০ সাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা চালু আছে। এই পরিষদ একজন চেয়ারম্যান, ৯ জন ওয়ার্ড মেম্বার এবং সংরক্ষিত আসনের ৩ জন নারী সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। ২০০৯ এর স্থানীয় সরকার আইনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যপরিধি ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এখন কথা হলো ২০০৯ এর ইউনিয়ন পরিষদ আইনে বর্তমান পরিষদ কতটুকু সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বিধি মোতাবেক ওয়ার্ড সভা, উন্মুক্ত বাজেট, স্টান্ডিং কমিটি সমূহ এর নিয়মিত সভা করার মাধ্যমে সরকারী বরাদ্দকৃত প্রণোদনা সমূহ জনগনের মাঝে সঠিকভাবে বিলি বণ্টন করতে সক্ষম হচ্ছে তা বিবেচ্য বিষয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিষদ হলে জনগনের কাছে পরিষদের জবাবদিহিতা থাকে না। নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হলে এর প্রভাব জবাবদিহিতার ক্ষেত্রটির ব্যত্যয় ঘটে। যার ফলে ইউনিয়ন পরিষদকে সরকারের দেয়া পণ্য সেবা প্রদানে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা সুনির্দিষ্টভাবে তা বণ্টনে প্রভাবিত করে থাকে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাব এর ফলে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হলে তা জাতীয় রাজনীতিকে কলুষিত করে থাকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, স্থানীয় সরকারে এমপিদের প্রভাব সবচাইতে বেশি।কারন নির্বাচনে দলীয় নমিনেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে এমপিরা প্রভাব বিস্তার করে থাকে। যার ফলে এমপিদের প্রভাব এর বাইরে চেয়ারম্যান মেম্বাররা কোন সিদ্বান্ত এককভাবে নিতে পারে না।
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যপরিধি অনুযায়ী কার্যাবলী সঠিকভাবে চলছে কিনা সেটিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তেমন পরিক্ষিত হচ্ছে না। তবে কেবলমাত্র যখন কোন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আসে, সেবা প্রদান সম্পর্কিত কোন কর্মসূচী আসে, তখন তারা ইউপি কার্যব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। শুধুমাত্র এসব ক্ষেত্রেই জনগনের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারদের সম্পর্ক দৃশ্যমান হয়। এসব ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ রাজনৈতিক প্রভাব পাশ কাটিয়ে সঠিকভাবে প্রণোদনা সমূহ জনগনের নিকট পৌছে দিতে পারলেই স্থানীয় স্টেক হোল্ডাররা উপকৃত হতে পারে। ভোটারদের মধ্যে সচেতনতার ক্ষেত্রে বর্তমানে দৃষ্টিভঙ্গির ব্যপক উন্নতি ঘটেছে। ইউপি নেতাদের কর্মদক্ষতা সম্পর্কিত জ্ঞান পরিমাপ করার ক্ষমতা ভোটারদের মাঝে বেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর কারন হলো সরকারের বিভিন্ন ইউপি সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন (২০০৯ এর আইনে স্টান্ডিং কমিটিগুলোতে নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির বিধান)। এছাড়া উন্নয়ন কর্মসূচীতে সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রথা পদ্ধতি চালু করা। যেমন (এলজিএসপির জন্য গণসমাবেশ)। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির সূচনা, ওয়ার্ড সভা করা, স্টান্ডিং কমিটিতে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা ইত্যাদি। এছাড়া এনজিওদের মাধ্যমে সচেতনতার জন্য নাগরিক সুবিধা গ্রহণকারীদের সংঘবদ্ধ করা। এ সকল আইনি বিষয়গুলো যদি স্বস্ব সরকারী কর্মকর্তা, ইউএনও, পিআইও, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রাখেন এবং জনগনকে সম্পৃক্ত করে আইন দ্বারা নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করেন তবেই এই আইনি ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
ইউনিয়ন পরিষদের ব্যপারে জনগনের ভাবনা বা দৃষ্টি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অতিদরিদ্রের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী সংক্রান্ত সেবা যেমন:- ভিজিডি, ভিজিএফ, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, কাবিখা, কাবিটা, ৪০ দিন এর কর্মসূচী ইত্যাদিসহ বিভিন্ন দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা কর্মসূচী প্রদান, এসবের উপর। এছাড়া সমাজে রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে সামর্থ্য সম্পন্ন বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের ভিন্ন ভিন্ন রকম চাহিদা যা মনোযোগের ব্যপারে বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ভোটারদের মূল আগ্রহের বিষয় হলো সার ও কৃষিপণ্যের উপর ভুর্তকি সহায়তা লাভ, এছাড়া ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপের সুবিধা গ্রহন। সবচেয়ে বিত্তবানরা পাবলিক গুডসের বরাদ্দ এর প্রতি বেশি নজর প্রদান করেন। বিশেষ করে এলাকার সড়ক, কালভার্ট, সেচ ব্যবস্থা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজের ভাগের উপর। এছাড়া স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিতে স্থান লাভের ক্ষেত্রে তাদের নজর পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বাররা যতটা সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের সাথে ব্যালেন্স করে সিদ্বান্ত গ্রহন করতে পারেন তা হলেই তার যোগ্যতা তত বেশি ফুটে উঠবে। এ ক্ষেত্রে সে সমস্ত চেয়ারম্যান, মেম্বারদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রার্থীর সামাজিক পরিচিতি, গ্রাম্য সমাজের দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে সক্রিয়তা ও দক্ষতা এবং গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যানমূলক চাহিদা পূরণে কতটা সক্ষম তার উপর একটি যোগ্যতা পরিমাপ করা যায়।
প্রার্থীদের বংশগত মর্যাদা ও পারিবারিক ঐতিহ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রার্থীর রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভালো বৈশিষ্ট্য এর ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা একটি অন্যতম ফেক্টর হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া গ্রামগঞ্জে খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও বিভিন্ন সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে যোগদান ও সহযোগিতার মাধ্যমে যুবক শ্রেনীর মধ্যে একটি একটিভ ইমেজ গড়ে তুলে সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। ইউপি পর্যায়ে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংরক্ষিত আসন রাখার বিধান, নারীদের স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অনেক বেশি প্রতিযোগীতা করার সুযোগ করে দিয়েছে।নারী সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ড সভার সিস্টেম থাকাতে দরিদ্র নারী পুরুষ এর জন্য দাবী পেশ করার সুযোগ কাঠামো তৈরি হয়েছে বলা যায়। নারীদের জন্য এসব সামাজিক জবাবদিহি ফোরামে যোগদান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও মাঝে মাঝে জেলা প্রশাসকের এসব মিটিংএ উপস্থিত থাকার বিধান রয়েছে। এই বিষয়ে যদি নিয়মিত মনিটরিং করা যায় তাহলে ইউপি বিষয়ক আইনের বিধানাবলী কার্যকরী করা সম্ভব। এতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের জন্য গৃহীত সেবাগুলো যথাযথভাবে পাওয়ার আশা করতে পারে।
একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, ওয়ার্ড সভার সুবিধা ইউপি নেতারাও পেয়ে থাকেন। ওয়ার্ড সভা হলো চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে জনগনের একটা সংযোগ স্থাপন এর মাধ্যম। উন্মুক্ত বাজেটের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। নির্বাচনে নিজের যোগ্যতা ও জন সম্পৃক্ততা প্রমাণ করার এটা একটা সুযোগ। এ ছাড়াও ২০০৯ এর ইউপি বিধান মতে গ্রাম্য আদালত গঠন করা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। বলা চলে গ্রাম্য আদালত ইউনিয়ন পরিষদ ভিত্তিক একটি সীমিত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত। এই সালিশি আদালত শুধু পারিবারিক বিষয়ক আইনে বিচার করে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিষদ যদি পক্ষপাত দুষ্ট সিদ্বান্ত প্রদান করে থাকে তাহলে এর ফলাফল পরবর্তী নির্বাচনে বিপক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বরং কুশলী হয়ে গ্রাম পর্যায়ে মধ্যস্থতার ব্যবস্থা নিলে এর সুফল ও জনমত চেয়ারম্যানদের অনুকূলে থাকবে। ইউপি সদস্যদের নির্বাচনী প্রতিজ্ঞার ব্যপারে অনেক সংবেদনশীল হওয়া দরকার কারন তারা বেশিরভাগ বস্তুগত সেবা নিয়ে কাজ করে(যেমন নিরাপত্তা বেষ্টনী)। গরীবরা সাধারণত প্রতিজ্ঞাকারীদের প্রতিজ্ঞা রক্ষার ব্যপারে নির্বাচনে সঠিক মূল্যায়ন করে থাকে।
বিশেষ উল্লেখ্য যে তৃণমূল জনগোষ্ঠী আগের চেয়ে ইউপি সদস্যদের কর্মদক্ষতার ব্যপারে অনেক বেশি সচেতন। সবচেয়ে কঠিন ও কৌশলী বিষয়গুলো হলো কিভাবে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা রক্ষা করে চলবেন। আমাদের দেশে রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কটা মূলত দলীয় রাজনীতির উপর নির্ভরশীল। রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা রক্ষা করার প্রয়োজনে কিছু নীতি রাজনৈতিকভাবে খুবই সংবেদনশীল মনে করা হয় এবং সকল সরকারই এ ব্যপারে বৈধতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্বান্ত গ্রহন করে থাকেন। যেমন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দুর্ভিক্ষ থেকে দেশকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে খাদ্য নিরাপত্তা বাস্তবায়নের স্বার্থে, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণা বেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর আওতায় ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সারাদেশে দরিদ্র শ্রমিক ও বেকার জনসাধারণের কর্মসংস্থানসহ শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে (টিআর) কর্মসূচীর খাদ্যশস্য, নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। এই কর্মসূচীর মূল লক্ষ হলো সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও দুস্থ জনগনের অংশগ্রহণ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই কর্মসূচী বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাটিয়ে উঠে সঠিকভাবে সকল কাজ করতে পারলে এর সফলতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট ধরা পরবে।যা পরবর্তী নির্বাচনে প্লাস পয়েন্ট হিসেবে থাকবে। এ ছাড়া বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য নগদ অর্থ প্রদানের রেওয়াজ চালু হয়েছে। নগদ টাকা প্রদানের মাধ্যমে ভোট ব্যাংক বা মূল সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটার কেনার ঘটনা বেড়েই চলছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেশ কিছু ইউনিয়নে কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে অনুমান করা যায়। তবে এক্ষেত্রে কিছু কিছু প্রার্থী অনেক টাকা খরচ করেও সফলকাম হতে পারে নি।
সর্বশেষ পর্যালোচনায় দেখা যায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভার এড়িয়ে চলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকাংশেই ইউপি নেতৃত্বের রাজনৈতিক ক্ষেত্রটি উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপির প্রতি আনুগত্যের ধরন দ্বারা নির্ধারিত হয়ে থাকে।ইউপি নেতৃত্ব বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় নেতাদের অধস্তন হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে ইউপি নির্বাচন হলে জনগন যেমন উপকৃত হবে তেমনি করে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনাসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচী সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার সুযোগ থাকবে। যার সুফল রাষ্ট্র ও সরকার পাবে।
লেখক : ফজলুল কাদের মজনু
সভাপতি
ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ।
