জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা ছাত্রদলের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত
ভোলায় আইসিইউ-সিসিইউ চালুর দাবিতে নয়নের পাশে বিভিন্ন পেশার মানুষ

রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভোলা সদর উপজেলার মাছুমা খানম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া বলেন, ‘নয়ন খানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ভোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবিতে আমরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে এসেছি। কেননা, এটা শুধু নয়নের একার দাবি নয়, এটা ভোলাবাসীর দাবি।’
কর্মসূচিতে সংহতি জানান ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হুমায়ূন কবির সোপান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হেলালউদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মাসুদ এবং সদস্যসচিব মুনতাসীর আলম চৌধুরী রবিনসহ দলটির নেতা-কর্মীরা।
হুমায়ূন কবির সোপান বলেন, ভোলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও সিসিইউ চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ দাবির সঙ্গে তাঁরাও একাত্মতা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, আইসিইউ না থাকায় প্রায় ছয় বছর আগে তিনি তাঁর মাকে হারিয়েছেন। হাসপাতালে আইসিইউ সেবা থাকলে হয়তো তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হতো না।
ভোলা পৌরসভার ওয়েস্টার্ন পাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন খান গত ২৮ অক্টোবর থেকে হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। প্রতিদিন কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে একাই দাঁড়াতেন তিনি। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘দ্বীপ জেলা ভোলার মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ও সিসিইউ চালু করা হোক।’
নয়ন খান জানান, গত ২৬ অক্টোবর রাতে অসুস্থ বাবাকে ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাঁর বাবাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে মনে করেন তিনি। পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নয়ন।
তিনি বলেন, ‘গত ১২ দিন ধরে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের টনক নড়েনি। তাঁরা আজও আমার কাছে আসেনি। তাঁরা কেউ জানতেও চায়নি আমি কেন এ কর্মসূচি পালন করছি।’
এর আগে নয়নের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তাঁর পাশে দাঁড়ান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সার প্রিন্স আইয়ুব এবং নাজিউর রহমান কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তানজিল শরীফ।
মাহফুজুর রহমান বলেন, নয়নের এ দাবি তাঁর একার নয়, এটি ভোলাবাসীর দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির খবর দেখে তিনি ঢাকা থেকে ভোলায় এসে সংহতি জানিয়েছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী বলেন, পাঁচ বছর আগে ভোলা জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা স্থাপন করা হলেও জনবলসংকটে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আরাফাতুর রহমান বলেন, আইসিইউ সেবা চালু না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বরিশাল ও ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। ডেঙ্গু, হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের জটিল রোগীদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ভোলার মতো দ্বীপজেলায় জরুরি ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসায় পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ও সিসিইউ সেবা কতটা জরুরি, নয়ন খানের একক প্রতিবাদ থেকে গণমানুষের এই সংহতি সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।
