ভোলায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, পাঁচ বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা
বরাদ্দের চাল পাননি ২১ হাজার জেলে

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম রক্ষায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার। কিন্তু এখনও সরকারের প্রতিশ্রুত ভিজিএফের ২৫ কেজি করে চাল পায়নি লালমোহন উপজেলার ২১ হাজার জেলে পরিবার। গতকাল সোমবার পর্যন্ত চাল বিতরণ শুরু না হওয়ায় অনেক পরিবারই খাদ্যসংকটে পড়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে পশ্চিম চরউমেদ, কালমা ও বদরপুর ইউনিয়নে জেলেদের মধ্যে আংশিক চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ২ হাজার ৩৯৮ জন, বদরপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার ১৮২ জন এবং কালমা ইউনিয়নের এক হাজার ২৪৫ জন জেলে রয়েছেন। তবে এই তিনটি ইউনিয়ন ছাড়া পৌরসভাসহ বাকি ছয়টি ইউনিয়নে এখনও চাল বিতরণ শুরু হয়নি।
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে জেলেদের কোনো আয় নেই। সংসারে চাল-ডাল ফুরিয়ে যাওয়ায় কেউ ধার করে, কেউ আবার দোকান থেকে বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চললেও সরকারি সহায়তার চাল না পাওয়ায় তাদের হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।
জেলেরা বলছেন, সরকার যখন মাছ ধরতে নিষেধ করে, তখন পরিবার চালানোর ভরসা থাকে এই বরাদ্দের চাল। কিন্তু সময়মতো সেই চাল না পেলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার মূল্য দিতে হয় তাদের স্ত্রী-সন্তানদের না খেয়ে থাকার মাধ্যমে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা লালমোহনের ২১ হাজার জেলে পরিবারের জন্য মানবিক সহায়তা (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় ৫২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি নিবন্ধিত জেলে পরিবার ২৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।
উপজেলার বদরপুরে ৩ হাজার ১৮২টি, লর্ডহার্ডিঞ্জে ৩ হাজার ৫৬৯টি, ফরাজগঞ্জে ২ হাজার ৮২৩টি, পশ্চিম চরউমেদে ২ হাজার ৩৯৮টি, কালমায় ১ হাজার ২৪৫টি, চরভূতায় ১ হাজার ২৪৮টি, লালমোহনে ৮৭৫টি এবং রমাগঞ্জে ৭৮২টি পরিবার এই সহায়তা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে পর্যন্ত চাল বিতরণ না হওয়ায় জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। তাদের প্রশ্ন, নিষেধাজ্ঞার সময়ই যদি সহায়তা না মেলে, তাহলে এই বরাদ্দের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হবে?
লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মেঘনাপাড়ের জেলে কামরুল, মাকসুদ, আব্বাস ও রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আমাগো আয়ের পথও বন্ধ থাকে। সরকারি চালই তখন একমাত্র ভরসা। সময়মতো চাল না পাওয়ায় ঋণের বোঝা বাড়ছে। সংসার চালানো, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ ও এনজিওর কিস্তি দিতে ধারদেনা করতে হচ্ছে।’
ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘নিবন্ধিত জেলের সংখ্যার তুলনায় বরাদ্দ পাওয়া চালের পরিমাণ কম হওয়ায় চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তালিকা প্রণয়ন করে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।’
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আকন্দ বলেন, ‘উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২৪ হাজার ৮০৬ জন। তাদের মধ্যে ২১ হাজার জেলের জন্য মাথাপিছু ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে জেলেদের তালিকা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী দ্রুত চাল বিতরণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে ।’
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য কার্যালয় থেকে জেলেদের তালিকা চূড়ান্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নে চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের দ্রুত চাল বিতরণের জন্য বলা
হয়েছে। খুব শিগগিরই চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সূত্র সমকাল
