শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানের উদ্দেশে আবেদনপত্র, কী লেখা তাতে
বাড়ির ভিটা ছাড়া সব বিক্রি করেও সুস্থ হননি মিরাজ, বন্ধ উন্নত চিকিৎসা

একসময় ট্রাক চালিয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতেন মো. মিরাজ। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর বদলে গেছে তাঁর জীবনের চিত্র। শরীরের বড় একটি অংশ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী তিনি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে বসতভিটা ছাড়া প্রায় সব সম্পদ বিক্রি করেও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অর্থাভাবে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে তাঁর উন্নত চিকিৎসা।
মিরাজ ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী এলাকার শফিউল্যাহর ছেলে। ট্রাক চালিয়ে উপার্জিত অর্থে স্ত্রী রিংকু বেগম, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে চলত তাঁর পাঁচ সদস্যের সংসার।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ট্রাক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মিরাজ। এরপর থেকেই তাঁর পরিবারে নেমে আসে আর্থিক সংকট। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে বসতভিটা ছাড়া প্রায় সব সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে। তবুও পুরোপুরি সুস্থ হননি তিনি।
বর্তমানে মিরাজের কোনো উপার্জন নেই। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলাফেরাও করতে পারেন না। সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানো, স্বামীর চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন রিংকু বেগম।
স্বামীর চিকিৎসা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর। বড় মেয়ের বিয়ে এবং ছোট সন্তানদের লেখাপড়া নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।
রিংকু বেগম বলেন, “আমার স্বামী ট্রাক চালাতেন। তাঁর আয়েই সংসার চলত। প্রায় দুই বছর আগে নড়িয়ায় ট্রাক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর চিকিৎসার জন্য বসতভিটা ছাড়া সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তবুও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি।”
তিনি আরও জানান, অর্থের অভাবে বর্তমানে মিরাজের উন্নত চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ অবস্থায় মিরাজের চিকিৎসার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন রিংকু বেগম।
মিরাজের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে পরিবারের পক্ষ থেকে ০১৩২০৬২৪৬১৩ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, নম্বরটি ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টের।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ বলেন, মিরাজ ইতোমধ্যে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
