সর্বশেষঃ

প্রতিষ্ঠার ৬৬ বছরেও অবকাঠামো সংকট কাটেনি মনপুরার হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসায়

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার অন্যতম পুরোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজিরহাট হোসাইনিয়া আলিম মাদ্রাসা। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে ৫০০-এর বেশি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সংকট কাটেনি। বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখন এতটাই জরাজীর্ণ যে বর্ষা মৌসুমে সেখানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় টিনশেড ঘরেই কার্যক্রম চলেছে। পরে ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০২০ সালে আরও একটি একতলা পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলো এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি পাকা ভবনের অবস্থাও বর্তমানে অনেকটা জরাজীর্ণ। ভবনটি কয়েক দফা মেরামত করা হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি।

মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে মোট ১১টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যক্ষের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ডিজিটাল আইসিটি ল্যাবসহ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম পর্যায়ের পাঠদানের জন্য কক্ষ রয়েছে। ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর বিপরীতে এই সংখ্যক কক্ষ পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোতে পাঠদান নিয়ে ভোগান্তি বেশি। শ্রেণিকক্ষগুলোর অনেকগুলোতে জানালা নেই। বৃষ্টির সময় টিনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং নিচু জায়গায় হওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

মাদ্রাসাটি মনপুরায় এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। ফলে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি পরীক্ষা চলাকালীন অতিরিক্ত কক্ষের প্রয়োজন হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান কক্ষ সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ইমরান বলেন, “আমাদের মাদ্রাসার টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোতে বর্ষার সময় ক্লাস করা খুব কষ্টকর। ওপর থেকে পানি পড়ে। আবার অনেক কক্ষে জানালা না থাকায় বাইরে থেকেও পানি আসে। এতে ক্লাস করতে সমস্যা হয়।”

আরেক শিক্ষার্থী মাহবুবা আক্তার বলেন, “মাদ্রাসায় কক্ষ সংকট থাকায় মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো কমন রুমের ব্যবস্থা নেই। অনেক সময় একই কক্ষে দুই শ্রেণির ক্লাসও নিতে হয়। তাই আমরা একটি নতুন ভবন চাই।”

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোসলেউদ্দিন বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি এটি একটি পরীক্ষা কেন্দ্র। সবকিছু বিবেচনায় আমাদের কক্ষের সংকট রয়েছে। পুরোনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, মাদ্রাসাটিতে একটি নতুন ভবন দেওয়া হোক।”

স্থানীয়দের মতে, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি মনপুরা উপজেলার সদর এলাকায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও সময়ের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন পায়নি। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও এই পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ এখনো টিনশেড শ্রেণিকক্ষনির্ভর।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি, জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষের পরিবর্তে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি বড় একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হলে কক্ষ সংকট অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সময়ও শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

স্বাধীনতার আগেই প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবেশ উন্নত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।