সর্বশেষঃ

প্রতিটি ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

মোঃ হাসনাইন আহম্মেদ :

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, যুব সমাজকে প্রশিক্ষিত করে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। জুমের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ৬ হাজার ৪০০ প্রশিক্ষণার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আমিনুল হক বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচার সরকার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কিছু করেনি। বর্তমান সরকার প্রত্যেকটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিশু-কিশোরদের ডিভাইসনির্ভরতা থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ জন্য চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামের একটি বই সংযোজন করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তুলতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচে ৪ হাজার ৮০০ জন এবং ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচে ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।

ভোলা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, যুগ্মসচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ভোলা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, ভোলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার (পিপিএম), প্রশিক্ষণার্থী জিনান মাহামুদ, ফাতেমা বেগম মীম ও ফারজানা শিমুসহ সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ১৮ জন সফল ফ্রিল্যান্সারকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। পাশাপাশি এআই প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচের ছয়জন প্রশিক্ষণার্থীকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ আয়কারী কয়েকজন সফল ফ্রিল্যান্সারের হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়।

এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন। এক দিনের সফরে বুধবার রাতে ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে রওনা হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে তিনি ভোলায় পৌঁছান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।