বাল্যবিবাহ রোধ ও উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে মনপুরায় কিশোরী-অভিভাবকদের প্রশিক্ষণ

ভোলার মনপুরায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোরীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করা, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কিশোরী ও অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফৈজুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো)-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক, উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের বিষয়ে কিশোরী ও অভিভাবকদের সচেতন করা হয়। একই সঙ্গে কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের পানিসম্পদ ও সেচ ব্যবস্থাপনা শাখার উপাদান মো. রাশেদুল হক, ইরেসপো-বিআরডিবি ঢাকার উপপ্রকল্প পরিচালক মো. আবদুস সবুর এবং ভোলা জেলা বিআরডিবির উপপরিচালক মো. আজাদুর রহমান।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহে আলম লিটন।
এ সময় মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফৈজুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল বারীসহ শিক্ষক-কর্মচারী, কিশোরী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কয়েকজন কিশোরীর মধ্যে সঞ্চয় ও প্রণোদনার চেক বিতরণ করেন। চেক গ্রহণ করেন শাহিদা বেগম, সাথী, মুক্তা বেগম ও সামিয়া আক্তারসহ কয়েকজন কিশোরী। এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে গাছের চারা ও ছাতা বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, কিশোরী ক্লাবের মাধ্যমে মেয়েদের নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা হচ্ছে। কোনো কিশোরী ২০০ টাকা সঞ্চয় করলে প্রকল্পের মাধ্যমে তাকে ৪০০ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে কিশোরীরা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ে উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে।
তিনি বলেন, অনেক কিশোরী ভবিষ্যতে নার্স, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশায় যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
প্রধান অতিথি মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু কিশোরীদের নয়, অভিভাবকদেরও সচেতন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার সন্তানদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না। ইরেসপো প্রকল্পের মাধ্যমে কিশোরীদের সঞ্চয়ের সঙ্গে প্রণোদনা দেওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কিশোরীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মাধ্যমে কিশোরীরা ভবিষ্যতে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে পরিবার ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে ইরেসপো প্রকল্পের মাঠ সংগঠক মো. মোকাম্মেলসহ বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, কিশোরী ও তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
