সর্বশেষঃ

ভোলার জোয়ারে প্লাবিত বিস্তীর্ণ জনপদ, ৪দিন ধরে দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, অমাবস্যার প্রভাব এবং উজানের পানির চাপে ভোলার মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গত চারদিন ধরে টানা জোয়ারে বাঁধের বাইরে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জেলার অন্তত ১৫ গ্রামের শত শত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছেন।

পানিতে ভাসছে ওইসব এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পানিবন্দি হয়ে দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভোলা সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জোয়ারের পানিতে ডুবে আছে ঘরভিটা, রাস্তাঘাট। অনেকেই পানি থেকে বাঁচতে ঘর ছেড়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদের মধ্যে মর্জিনা বেগম ও তানিয়া বলেন, জোয়ারের পানি প্রবেশ করে আবার ভাটায় নেমে যায়, তবে জোয়ার এলে ঘর দুয়ার তলিয়ে যায় আমরা ঠিকমত রান্না বান্না করতে পারিনা, ঘরেও থাকতে পারিনা।

জোরখাল এলাকার পানিবন্দি পরিবারের কয়েকজন বলেন, পানিতে সব ভেসে গেছে, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে দুর্ভোগ চলছে গত চারদিন ধরে, কিন্তু প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা আসেনি, অনেকেই না খেয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

ভোলা সদর, দৌলতখান, মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার অন্তত ১৫ গ্রাম গত চারদিন ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে। পানিতে ডুবে রয়েছে ভোলা উপকূলের জনপদ। এর মধ্যে আবার টানা বর্ষণ আরও দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অতি জোয়ারে তলিয়ে গেছে বাঁধের বাইরে থাকা বসতভিটা, রাস্তাঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভোলা সদরের রাজাপুর, ইলিশা, ধনিয়া ও শিবপুরসহ জেলার ১৫টি গ্রামের শত শত পরিবার।

জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফলে অনেকের ঘরে জ্বলছে না রান্নার চুলা। পানিবন্দি মানুষগুলো সরকারি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানালে চারদিনেও তা পৌঁছিয়নি।

এদিকে চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ও নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী দিনদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়, তার আগের দিন ছিল ৪৭ সেন্টিমিটার, আশা করা হচ্ছে আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। মূলত আমবশ্যা ও উজানের পানির চাপে পানি বেড়েছিল, যা কমতে শুরু করেছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ১০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্গত এলাকাগুলোয় অতি দ্রুত প্রশাসনের মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।