ভোলায় চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় এজাহারভুক্ত ৪ আসামি গ্রেপ্তার
ইলিশায় মেঘনার ভয়াল থাবা: ধসে পড়ছে সিসি ব্লক, হুমকিতে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও শহর রক্ষা বাঁধ

মো: মঞ্জুর আলম ॥
ভোলার ইলিশা পয়েন্টে আবারও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে মেঘনা নদীর ভাঙন। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতি জোয়ারের তীব্র স্রোতের চাপে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের শত শত সিসি (কংক্রিট) ব্লক নদী গর্ভে বিলীন হতে চলছে। এতে ঢাকা-ইলিশা ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, মাছঘাট এবং ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইলিশা পয়েন্টের প্রায় ৩০ মিটার এলাকাজুড়ে চার স্তরের অসংখ্য সিসি ব্লক ধসে নদীতে তলিয়ে গেছে। ধসে পড়া অংশের পাশেই বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় আরও বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ধসের প্রভাবে ঢাকা-ইলিশা নৌপথের লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। নদীতীরের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া শুরু করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও একই স্থানে ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল। এরপরও স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বর্ষায় একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, মাছঘাট, শহর রক্ষা বাঁধসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, ভোলা শহরের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভাঙন আর বিস্তৃত না হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলিশা এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটি চালুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ব্লক ধসের ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙনের পুনরাবৃত্তি রোধে অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, তা না হলে প্রতি বর্ষায় একই আতঙ্ক আর দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে ভোলাবাসীকে।
