সর্বশেষঃ

মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়ি বাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল ৫ থেকে ৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে করে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম নৌপথ রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী। বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ৬০ কলোনি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বুকসমান পানি প্রবাহিত হয়। প্রায় ৬০টি পরিবারের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন। অনেককে ঘরের টিনের ছাদে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

এদিকে, বেড়িবাঁধবিহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসব এলাকা পাঁচ থেকে সাত ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিন তালুকদার। অন্যদিকে, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে।
৬০ কলোনির বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল, সখিনা বেগমসহ কয়েকজন জানান, দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে তাঁদের বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জোয়ারে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন পানি আসবে, কখন নামবে—এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে।


রামনেওয়াজ ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা ও মমিন তালুকদার জানান, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
পাউবোর ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মনপুরা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী এসব বাসিন্দার জন্য জিআর (GR) কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।