মনপুরায় মেঘনার পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে, পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ
ভোলার ইলিশা পয়েন্টে সিসি ব্লক ধস, হুমকিতে ফেরিঘাট-লঞ্চঘাট ও শহর রক্ষা বাঁধ

ভোলার বাণী ডেস্ক :
উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোতে ভোলার মেঘনা নদীর ইলিশা পয়েন্টে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের শত শত সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। এতে ইলিশা ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, মাছঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙন বিস্তৃত হয়ে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোররাত থেকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় সিসি ব্লক ধস শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজানের পানির চাপ ও মেঘনার তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে চার স্তরের শত শত সিসি ব্লক। স্রোতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধসের পরিমাণও বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাশের আরও প্রায় ১০ মিটার এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ধসের কারণে ঢাকা-ইলিশা নৌপথের একটি লঞ্চঘাটের পল্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ঘাটে যাত্রী ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
এদিকে ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পুরো ঘাট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঝুঁকিতে থাকা দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনস্থল থেকে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের দূরত্ব মাত্র প্রায় ২০ মিটার। ফলে বেড়িবাঁধের ওপারে থাকা তিন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয়রা বলছেন, ইলিশা পয়েন্ট ভোলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র। এখানে জেলার প্রধান ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট, মাছঘাটসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রয়েছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নদীতীরবর্তী বসতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারে।
ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। তাঁর ভাষ্য, সিসি ব্লক ধসে পড়লেও পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও একই স্থানে একাধিকবার সিসি ব্লক ধসের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের মতে, শুধু জরুরি মেরামত নয়, নদীভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের ভাঙনের পুনরাবৃত্তি হবে এবং একসময় তা ভোলা শহর রক্ষা বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে এলাকা রক্ষায় ২০২১ সালে প্রায় ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজাপুর ও ইলিশা ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লকসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিদ্যমান প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
