ভোলা বিসিক শিল্প নগরীতে জামাল খানের ‘বাগান বাড়ি’ নিয়ে বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার ॥
শিল্পায়নের প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে শিল্পকারখানার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বাগান বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক বিতর্কিত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, শিল্প ইউনিটের জন্য বরাদ্দ নেওয়া প্লটে গড়ে তোলা হয়েছে অবকাশকেন্দ্রসদৃশ স্থাপনা, যেখানে রয়েছে গোলঘর, পদ্মপুকুর ও বিনোদনের নানা আয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) পরিচালিত ভোলা শিল্প নগরীটি জেলা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে চরনোয়াবাদ এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমির ওপর ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। একপাশে খাল ও অন্যপাশে সড়ক যোগাযোগ থাকায় এটি শিল্প স্থাপনের জন্য উপযোগী স্থান হিসেবে বিবেচিত। শিল্প নগরীতে মোট ৪৮টি প্লট থাকলেও প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
বিসিক জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ ‘খান ফ্লাওয়ার মিলস’ নামে বিবি মরিয়ম বেগমের নামে এ-৬ ও এ-৭ নম্বর প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৯ অক্টোবর ‘খান অটো রাইস মিল’ নামে এ-৫ নম্বর প্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির খাত ও নাম পরিবর্তন করে ‘মেসার্স খান ফিড অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুট জমি বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন না করে প্রভাব খাটিয়ে এখানে জলসা ঘর তৈরী করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বরাদ্দ নেওয়া প্লটগুলোতে ঘোষিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না তুলে সেখানে ব্যক্তিগত অবকাশযাপন কেন্দ্রে নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে একটি প্লটে ‘স্বদেশ এগ্রো’ নামে সাইনবোর্ড দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় শিল্পকারখানার কর্মী দাবি করেন, প্লটটিতে গড়ে তোলা বাগান বাড়িটিতে মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন রঙিন আয়োজন বসে। এছাড়া সেটি জামাল খান ও তার ছেলে ফাহিমের ব্যক্তিগত টর্চার সেল হিসেবেও ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যে উদ্যোক্তা যে খাতে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন, তাকে সেই খাত অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা। তবে উদ্যোক্তা চাইলে খাত পরিবর্তনের আবেদন করতে পারেন। খান অটো রাইস মিল বা মেসার্স খান ফিড অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ এখন পর্যন্ত খাত পরিবর্তনের জন্য কোনো লিখিত আবেদন করেনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। নিম্নমানের আটা-ময়দা সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ‘খান ফ্লাওয়ার মিল’ থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ডিজেল জব্দ করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই দুটি পানির ট্যাংক ও আটটি ড্রামে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল। পরে আদালত প্রতিষ্ঠানটির মালিক জামাল খানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ওএমএস ডিলার আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পচাগম ও ভুট্রা দিয়ে তৈরী আটাগুলে সে সরবরাহ করে আসছে। সরবরাহ করা আটা-ময়দার মান নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণে ওই ব্যবসায়ীর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দীন খান বা তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বিষয় টি নিয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত করবে কি না, সেই প্রশ্নেই বার বার করছেন স্থানীয় উদ্যক্তরা।
