দৌলতখানে স্কুল ফিডিং ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবারব (২৩ এপ্রিল) উপজেলার ১৫নং চরগুমানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এ আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জিজেইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাজিম উদ্দিন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান বাহার, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হাই এবং জিজেইউএস-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. খলিলুর রহমান।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জিজেইউএস-এর পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধ এবং নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন উঠে আসে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. তামিম জানায়, আগে স্কুলে খাবার না থাকায় ক্ষুধা লাগত, এখন খাবার পাওয়ায় ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়েছে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী সিনথিয়া জানায়, এখন স্কুলে আসতে আগের চেয়ে বেশি ভালো লাগে এবং খেলাধুলার পরও ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।
সহকারী শিক্ষক তাসলিমা বেগম বলেন, আগের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত স্কুলে ফিরছে। শিক্ষক আজিজুন নাহার জানান, আগে টিফিনের পর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা কঠিন ছিল, এখন তারা শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকে।
জিজেইউএস-এর নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মহিন বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথি আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার মানোন্নয়নের কার্যকর হাতিয়ার। এর ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে, ঝরে পড়া কমছে এবং তারা মনোযোগ দিয়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদ উদ্দিন বলেন, এ কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমেছে। পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সভা শেষে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
