হাসপাতালে ডায়রিয়া-নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে

বোরহানউদ্দিনে বেড সংকট চরমে, ৪ দিনে ডায়রিয়ায় ভর্তি-৭১

মনিরুজ্জামান ॥ শীতের শুরুতেই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের শীতজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়েছে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দিসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীদের। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৮ জন এবং নিউমোনিয়ায় ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র বেড সংকট। বেড না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে ঠাঁই হয়েছে অনেক রোগীর। অনেকেই বেড না পেয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন। ফলে স্বজনদের কাটাতে হচ্ছে নির্ঘুম রাত।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান ও আন্ত: বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২১ নভেম্বর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্য়ন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৭১ জন ভর্তি হন। যা গড়ে ১৮ জন। অপরদিকে ১ নভেম্বর থেকে ২৩নভেম্বর পর্য়ন্ত ৮৩ জন রোগি ভর্তি হয়েছেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। হাসপাতালে ৩০ জন ডাক্তারের বিপরীতে কর্মরত ৭ জন। ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও শয্যা সংখ্যা ১৯ টি। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবনটি পরিত্যাক্ত। প্রতিদিন বহির্বিভাগেও ২৫০-৩০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা, কাশি ও ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু, নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডের সব বেড পূর্ণ। করিডোর, প্রবেশপথ থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন কোনাজুড়ে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও রোগীর স্বজনরা। রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেড সংকট আর রোগীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা করতে হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত কাচিয়া ইউনিয়নের ১ বছরের এক শিশু তাওহীদ এর বাবা আব্ব্দুল হাই, টবগীর সাড়ে তিন বছরের শিশু খাদিজার বাবা মহসিন, পক্ষিয়ার ১০ মাস বয়সী আকবর বাবা শাকিল লালমোহন উপজেলার বদরপুরের দেড় বছর বয়সী শিশু ইয়ামিন এর বাবা লোকমান জানান, তাদের শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
অন্যদিকে ১ বছর বয়সী রিয়া মনির মা রুমা, দেড় বছর বয়সী নাজিফার মা জোৎসনা, ১৩ মাস বয়সী জান্নাতুল মাওয়ার মা মিতা বলেন, তাদের শিশুরা ডায়রিয়ায় হয়েছে। ডাক্তার ভর্তি করালেও বেড পাইনি। শুধু একটা চাদর দিয়েছে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা চলছে। শীতের মধ্যে এভাবে রাখা খুবই কষ্টদায়ক।
এদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা কে. এম রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, নিউমোনিয়া সাধারণ ফুসফুসের সংক্রমণ। নিউমোনিয়া নিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের রোগী আসছে। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হওয়ার আহবান জানান। তার মতে শীতে নিয়ম মানতে হবে তবেই সুস্থ থাকা সম্ভব।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. তায়েবুর রহমান বলেন, বাচ্চাদের শারীরিক সহনশীলতা ওরোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। দিনের গরম ও রাতের ঠান্ডার ব্যবধানে ছোট শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অতঙ্কিত না হয়ে বাচ্চাদের শীতের কাপড় পরিধান, পুষ্টিকর খাবার ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহবান জানান। ৫০ শয্যা হাসপাতালটি ৩১ শয্যা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভরনটি পরিত্যাক্ত হওয়ায় বেড সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।