পথের শিশু

সাব্বির, শিক্ষার্থী (১০ম শ্রেণী)
শহরের রাস্তায় এক শিশুর ছায়া হেঁটে যাচ্ছে,
খালি পায়ে, ছোট্ট কাঁধে টান পড়া ব্যাগ।
তার ছোট হাতের আঙ্গুলে মাটির দাগ,
মুখে নেই হাসি, শুধু চোখে ভরা অশ্রু।
আজও বেঁচে আছে ক্ষুধার টাকায়,
আজও জীবনের খেলায় সে একা,
কেউ নেই পাশে তার, কেউ নেই পাশে তার আশা।
পত্রিকার শিরোনাম বলে-
“নগরী উন্নয়নের পথে, শহর সুন্দর হচ্ছে।”
কিন্তু কে দেখছে সেই ক্ষুদ্র কন্ঠ,
যার স্বপ্ন ভেঙে গেছে বাতাসে,
যার ছোট্ট হৃদয় আজও কাঁপছে অন্ধকারে?
মানুষের চোখে অশ্রু, অথচ খবরের পাতায় নেই কোনো ছবি,
এই শিশুর ক্ষুধার গন্ধ, তার ছোট্ট হাতের আশা,
সব কিছু পড়ে আছে নীরবতার কোণে,
আমাদের চোখের সামনে, অথচ আমরা তাকাই না।
তার পায়ের চিহ্নে লুকিয়ে আছে গল্প-
একটি পরিবার, যা হয়তো হারিয়েছে খাবার,
একটি গ্রাম, যা হয়তো ভুলে গেছে মানুষের হাসি,
একটি শহর, যা অহংকারে ভেসে গেছে আলোয়।
তবু সে চলে,
প্রতিটি পদক্ষেপে অদৃশ্য যুদ্ধ,
প্রতিটি নিশ্বাসে অদৃশ্য আশা,
শহরের ভিড়ে অদৃশ্য মানুষগুলোর কাছে একবার হলেও সে বলে-
“আমি আছি, আমি বাঁচি, আমি চাই স্বপ্ন।”
শহরের আলোয় ধূলিকণা ভেসে যায়,
কিন্তু এই শিশুর ভেতরের অশ্রু মুছে না যায়।
আমাদের দায়িত্ব, আমাদের মানবতার দায়িত্ব,
এই ক্ষুদ্র মানুষটিকে দেখে আমরা কি করি?
কোনো খবরের শিরোনামে নয়, আমাদের চোখে,
আমরা কি তাকে দেখব, আমরা কি তাকে শোনব,
এই শহরের রাস্তায় বেঁচে থাকা এই শিশুটিকে ?
