ভোলায় পানি নিষ্কাশনের দাবীতে কৃষকদের মানববন্ধন, ২ কোটি টাকার ফসল নষ্ট
ভোলার আলীনগরে পানিতে ডুবে শিশু রাইসা’র মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার :
ভোলায় পানিতে ডুবে রাইসা (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া ৪নং ওয়ার্ডের সৃজন আলী বেপারী বাড়ীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশু রাইসা ওই এলাকার মোহাম্মদ রাসেলের মেয়ে। রাইসার লাশ বাড়িতে এনে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্র জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া ৪নং ওয়ার্ডের সৃজন আলী বেপারী বাড়ীতে শনিবার দুপুর ১টার দিকে দাদির সাথে ঘরের কাছেই পুকুরে গোসল করতে যায় একই পরিবারের চাচাতো ভাই-বোন রাইসা ও রাহাত। গোসল শেষে দাদি ঘরে চলে যান। এ সময় তিনি নাতি ও নাতনিকে সাবান নিয়ে ঘরে চলে আসতে বলেন। কিন্তু দুই নাতি ও নাতনির ঘরে আসতে দেরি হওয়ায় তিনি পুনরায় পুকুর ঘাটের দিকে যান। এ সময় তিনি নাতি রাহাতকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ডাক চিৎকার দিলে পরিবার ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। দাদা মোহাম্মদ আলমগীর পুকুরে নেমে নাতি রাহাতকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় নাতনি রাইসাকে খুঁজতে থাকেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরের ঘাটলার সিঁড়িতে ডুবন্ত অবস্থায় রাইসাকে পাওয়া যায়। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকার ও কান্নাকাটিতে পুরো এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় সেখানে পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটিতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। দুই চাচাতো ভাই ও বোনকে উদ্ধার করে ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাইসাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং রাহাত জীবিত থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। শিশু রাইসার এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ভোলা সদর মডেল থানার এস আই মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, পানিতে পড়েছে এমন দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে রাইসা (৮) নামের শিশুকে হাসপাতালে আনার আগেই পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে অপর শিশু রাহাত (৫) জীবিত থাকায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছে চিকিৎসক। এদিকে শিশু রাইসার মৃত্যুতে পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে রাইসার মৃত্যুতে বাবা-মা, দাদা-দাদি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রাইসেল লাশ বাড়িতে এনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
