ভোলায় ৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে বেতন বন্ধ করল মাউশি

শিমুল চৌধুরী ॥ ভোলা সদর উপজেলার নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। জুলাই মাসে এসব শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়নি বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বুধবার (২ আগস্ট) জুলাই মাসের এমপিওর চেকলিস্টে তাদের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়া শিক্ষকরা হলেন- নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সবুজ, সহকারী শিক্ষক তারা রানী (সমাজ বিজ্ঞান), সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব (গনিত), শ্যামল চন্দ্র দাস, শান্তনু চক্রবর্তী (শারীরিক শিক্ষা) ও বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম শাহীন।
এর আগে গত ৩১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো: মিজানুর রহমান এক প্রতিবেদনে জানান, ভোলা সদর উপজেলার নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর ১৮.১ ধারা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সবুজ, সহকারী শিক্ষক তারা রানী (সমাজ বিজ্ঞান), সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব (গনিত), শ্যামল চন্দ্র দাস, শান্তনু চক্রবর্তী (শারীরিক শিক্ষা) ও অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এমতাবস্থায় উল্লেখিত ৭ জনের বেতন/ভাতাদির সরকারি অংশ বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
দুর্নীতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ভোলা সদর উপজেলার নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৭ শিক্ষক ও কর্মচারির বেতন/ভাতা বন্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দীপক হালদার ও শিক্ষা অফিসের গবেষণা কর্মকর্তা নুর-ই-আলম সিদ্দিকী। তারা বলেন, নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ৭ শিক্ষক ও কর্মচারির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাদের এমপিও বন্ধ করে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। জুন মাস থেকে তাদের বেতন-ভাতাদি স্থগিত থাকবে বলেও জানান তারা।
খবরের সত্যতা স্বীকার করে নিজাম উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সবুজ বলেন, জুলাই মাস থেকে আমিসহ আমাদের বিদ্যালায়ের ৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে চিঠি করতো। চিঠির জবাব স্যারেরা দিতো। এর মধ্যে দুই জন শিক্ষকের জবাব চায়ও নাই। নেয়ও নাই। কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই বলেও দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের সবুজ। তবে, বিদ্যালায়ের ৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন স্থগিত করার কোন চিঠি এখনো অফিসিয়ালী কোন চিঠি পাননি বলে জানান বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।