ইউপি নির্বাচন, ভোলায় শেষ মুহূর্তে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ

আর মাত্র কয়েকদিন পর আগামী ৫ জানুয়ারি ভোলা সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারনার শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আচরণবিধি ভঙ্গের। আচরণবিধির কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে পোস্টারিং কিংবা মাইকিং এবং কোন কোন ইউনিয়নে অস্ত্রের মহড়াসব সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করছেন। এ ব্যাপারে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা যেন এক রকম নির্বিকার। তাদের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। তাদের এমন ভূমিকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও এসব দেখার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ প্রার্থী ও ভোটারদের। তাদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে নির্বাচনের দিন পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি।
জানা গেছে, ভোলা সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে শিবপুর, ধনিয়া, ইলিশা, আলীনগর, ও রাজাপুরসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শিবপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘন করে মহড়া দেওয়ার অভিযোগে সোহাগ (২৮) নামের এক যুবককে শুক্রবার রাতে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইউছুফ হাসান। দ-প্রাপ্ত সোহাগ ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাহে আলমের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুফ হাসান জানান, শুক্রবার রাতে একদল দুস্কৃতিকারী শিবপুর ইউনিয়নের চাউলতা তলা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছিল। এ সময় তাদের ধাওয়া করে সোহাগ নামে এক জনকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে একটি গুলতি ও বেশ কিছু মারবেল জব্দ করা হয়েছে। তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা-২০১৬ অনুযায়ী ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদ-াদেশ দেওয়া হয়।
শিবপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) চশমা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজ উদ্দিন রাকিব অভিযোগ করে বলেন, এ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জসিম উদদীন ও তার কর্মী-সমর্থকরা প্রতিনিয়ত নিবার্চনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে মোটরসাইকেলের শোডাউন করছেন এবং অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন। করছেন হামলা-ভাংচুর ও বোমাবাজি। তিনি আরও বলেন, আমাকে নির্বাচনী জনসংযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার প্রচারনায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। রোববার দুপুরেও আমার কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন। আর উল্টো আমার উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন অফিসে অভিযোগ দিলেও আমার অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র এ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।
রোববার সকালে ওই ইউনিয়নে সরেজমিনে গেলে স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা জানান, গত কয়েকদিন ধরে শিবপুর ইউনিয়নে হামলা, ভাঙচুর ও বোমাবাজির ঘটনায় সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত। তারা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহনের দাবি জানান।
ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান জসিম উদদীন অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করে বলেন, তাদের লোকজন এলাকায় বোমাবাজি করছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা সদর উপজেলার রিটার্ণিং অফিসার মিজানুর রহমান ভোলার বাণী’কে বলেন, আমার অফিসে সিসি ক্যামেরা রয়েছে কয়েকটি। যদি কোন প্রার্থী অফিসে এসে অভিযোগ দিয়ে থাকেন তাহলে সিসি ক্যামের্য়া-ই তার প্রমান পাওয়া যাবে। সূতরাং প্রার্থীদের অভিযোগ গ্রহন করা হচ্ছে না এটা সত্য নয়। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভোলা সদর উপজেলার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। আগামী ৫ জানুয়ারি এ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
