সর্বশেষঃ

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন

নৌকা পেতে ভোলা সদরের মনোনয়ন প্রত্যাশী অর্ধশত নেতা এখন ঢাকা

পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়ে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর ভোলা সদর উপজেলায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদেও দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই প্রচার-প্রচারনায় নেমে পড়েছেন বেশ জোড়ে শোরে। তাদের প্রচারনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তা ও বাড়ি সংলগ্ন চায়ের স্টলে জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা ও আড্ডা। ১২ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে দোয়া ও ভোট চাইতে শুরু করেছেন। করছেন মিছিল-মিটিং ও শোডাউন। অনেক প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও পোষ্ট দিয়ে দোয়া ও ভোট চেয়েছেন।
সরকার ঘোষিত পঞ্চম ধাপের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে ইউপি ভোট। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যেই দলীয় ফরম বিক্রি-জমা ও দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিতে হবে। তাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্র জানায়, ইতিমধ্যেই ভোলা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের তৃণমুল পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে সভা ডেকে ডেলিকেট ভোটের মাধ্যমে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামের তালিকা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন ব্যাপী ১২টি ইউনিয়নের তৃণমুল পর্যায়ের নেতাদের ডেলিকেট ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই ভোট শেষে গত মঙ্গলবার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামের তালিকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন ভোলা সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রায় ৩-৪ জনসহ ১২ ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।
এর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ছাড়া নতুন বহু মুখ রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো ওই নামের তালিকায়। উপজেলার ১২ ইউপিতে প্রায় অর্ধশত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা নৌকার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তারা নিজ এলাকা ছেড়ে এখন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে জোর লবিং তদবির। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে জমাও দিয়েছেন বলে জানা গেছে। দু-একদিনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডেকে ভোলার ১২ ইউনিয়নে দলের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর হাতে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত নৌকা প্রতীকের দলীয় ফরম তুলে দিতে পারেন। এরপর নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোলায় এসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করবেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে যারা দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলের পক্ষ থেকে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এখন পুরো ভোলা জেলা ব্যাপী সর্বত্র প্রায় একই প্রশ্ন এবারের ইউপি নির্বাচনে কে হবেন ভোলা সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের কান্ডারী ? কারা পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক ? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র কয়েকটা দিন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই দুই দিনে ১২ ইউনিয়নে তৃণমূলের ডেলিকেট ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করেছি। তারা ইতিমধ্যেই দলীয় ফরম ক্রয় করে জমাও দিয়েছেন। দু-একদিনের মধ্যে হয়তো দলের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে বলেও জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।
এদিকে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবার দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে অংশ না নিলেও দলের অনেক নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে পারেন। এ ছাড়া ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (ইশা) তাদের দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ভোট করার কথা জানিয়েছেন ইশা আন্দোলনের ভোলা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ভোলা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই আমাদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

ছবি-২। সংযুক্ত।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।