ভোলার সাবেক মন্ত্রী মোশারেফ হোসেন শাজাহানের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারে মনোনীত হলেন ভোলার কৃতি সন্তান আবদুস সবুর

রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার-২০২১ এর জন্যে মনোনীত হয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী আবদুস সবুর। সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয় থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। এবার নিয়ে তিনি দ্বিতীয় বারের মত রাষ্ট্রের এই বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার পাচ্ছেন। এর আগে তিনি ২০১৯ সালেও রাষ্ট্রিয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছিলেন। তখন তিনি ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়ীত্বে ছিলেন। অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী সেই পুরস্কার প্রদান করেন।
রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রবর্তিত সরকারি কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, সততা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে প্রদান করা একটি পুরস্কার। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭ প্রকাশিত হয়।
সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করে। সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। কর্মচারী বলতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্র্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বোঝানো হয়েছে। শুদ্ধাচার চর্চার ১৮টি ক্ষেত্রে ৫ নাম্বার করে মোট ৯০ নাম্বার এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দফতর বা সংস্থা কর্তৃক ধার্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রমে ১০ নাম্বার; মোট ১০০ নাম্বারের মধ্যে একজন কর্মচারীকে যাচাইবাছাই করে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পুরস্কার হিসেবে একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।
শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত ১৮টি গুণাবলি হচ্ছে- কর্মচারীর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন স্থাপন করা, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবাগ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, ছুটি গ্রহণের প্রবণতা, উদ্ভাবনী চর্চার সক্ষমতা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে আগ্রহ, উপস্থাপন দক্ষতা, ই-ফাইল ব্যবহারে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা করা।
দ্বীপজেলা ভোলার কৃতিসন্তান এবং ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র ১৯৭৭ সালে প্রথম শ্রেণীতে এসএসসি, ভোলা সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে প্রথম শ্রেণীতে এইচএসসি এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ১৯৮৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সাথে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ট্রান্সপোর্টেশান ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
আবদুস সবুর ০৩ জুলাই ১৯৮৬ সালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে দূরদর্শিতা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারি প্রকৌশলী হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ব্রীজ সার্ভে এন্ড হাইড্রলজি ডিভিশন, প্রগ্রেস ডিভিশন এবং সিলেট সড়ক সার্কেলে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি প্রাপ্ত হয়ে তিনি উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে সড়ক উপ-বিভাগ গৌরীপুর, কুমিল্লা এবং সড়ক উপ-বিভাগ কেরানিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ পদে কাজ করেন। অতঃপর তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে ইনফরমেশন সার্ভিসেস ডিভিশন, ঢাকা; সড়ক বিভাগ সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ এবং প্রশাসন ও সংস্থাপন, ঢাকায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সময়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্য এসআরএনডিপি, ৩ সেতু প্রকল্প এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম ৪-লেন হাইওয়ে প্রকল্পে যথাক্রমে সহকারী প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসাবে কাজ করেন।
আবদুস সবুর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে নোয়াখালী সড়ক সার্কেলে এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে ঢাকা জোনে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে যোগদানের পূর্বে তিনি ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরকারি কাজের অংশ হিসাবে তিনি সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, চীন ও ভারতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
তার পিতা মরহুম আবদুস শাকুর ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মাতা মরহুমা মমতাজ বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী ছিলেন। দুসন্তানের জনক সবুরের সহধর্মিণী শাহিদা রুনু একজন সু-গৃহিণী। চাকুরিজীবী স্বামী সদা কর্মব্যস্ত থাকলেও নিজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিবিড় পরচর্যার মাধ্যমে দুটি সন্তানকেই সুশিক্ষিত এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ছেলে তুরাশ পাইলট এবং মেয়ে তিশা প্রকৌশলী। দুসন্তানই কর্মরত।
উল্লেখ্য, আবসুদ সবুর ‘ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলামনি এসোসিয়েশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি। তার এ সফলতায় আমরা সুস্বাস্থ্য ও দীঘায়ু কামনা করছি।
