ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন, ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন
জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র : পর্ব-৮৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : কানাডায় বাংলাদেশ কেন্দ্র কর্তৃক দেওয়া সংবর্ধনায় বক্তব্য ॥ উপস্থিত সুধী মন্ডলী, আস্ছালামু আলাইকুম। শরতের মেঘমুক্ত নীল আকাশ, পাখির কলতান, মন্ট্রিলের আকাশ, বাতাস নব কিশলয়ে সুসজ্জিত হয়ে গাছে গাছে রং বেরং এর ফুল, লতা, পাতায় এদেশ নববধুর মত সলাজ হাসিতে ভরপুর। এমনি দিনে শিশিরসিক্ত গোধূলীলগ্নে আপনারা বাংলাদেশ কেন্দ্র থেকে আমাকে সংবর্ধনা জানাচ্ছেন। আমি এর কতটুকু উপযুক্ত তা আমি নিজেও জানি না। এ জন্য আমি ও আমার অন্তরের নিভৃততম প্রদেশ থেকে আপনারদের জানাই গভীর অভিনন্দন।
বাংলাদেশ কেন্দ্র এ নামাটি আমার ক্ষুদ্র হৃদয়ে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ কেন্দ্রে এসে আমি যেন নতুন করে বেঁচে উঠেছি। আমরা
সকলেই বাঙ্গালী। বাংলা আমাদের মান, বাংলা আমাদের প্রাণ, বাংলা আমাদের মর্যাদা। যে জাতি তার অতীত ইতিহাস স্মরণ রাখে না, সে জাতি বিশে^র বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে না। যে বাংলায় এখন শরতের কাঁশবন চামর দোলায় রাতের শিাশিরে শিউলী ঝরে, ভোরে সুমধুর সুরে ফাখি গান গায়। সেখানে এখন বড় বিলের বুকে জ¦লপদ্ম ফুটে থাকে। উজান নদীতে মাঝি ভাটিয়ালী গান গায়। যেখানে এখন সোনার ধান সোনা ছড়িয়ে খাকে। সেখানে এখান শুকনো পথঘাট ঝরঝরে দিনগুলি। এ রূপ নিয়েছে। একটানা বারি বর্ষন দেশের সামগ্রিক জীবন-ব্যবস্থা বিপর্যয় করে তুলছে। এ দুর্যোগপূর্ণ কবলিত এলাকা দুঃস্থ ও অসহায় লোকের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চারদিকে মানুষের আহাজারি এবং ত্রানের জন্য আকুতি। গোটা দেশ স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকার প্রতিটি পথঘাট, অলিগলি ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে।
মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। দুর্গত মানুষের আগ্রয় দেবার মত জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে। এ সকল দুর্যোগ কবলিত মানষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমানে এই কানাডা সহ দেশবিদেশে আমরা যারা অবস্থান করছি প্রত্যেকের উচিত এ আর্ত-মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা। আপনারা যারা এ সুদূর পাশ্চাত্যে অবস্থান করছেন আমি আপনাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। আপনারা যাতে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে সামনের দিকে যেতে পারেন।
আর একটা কথা, না বললেই নয়- আপনারা এই কানাডায় যে যেখানে অবস্থান করেন না কেন পারস্পরিক সুখ-দুঃখ বিপদ-আপদ সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সাহায্য সহযোগিতা করবেন। বাকী সময়গুলো আপনাদের সার্থক ও সুন্দর হোক এই কামনায় ধন্যবাদ সবাইকে।
শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) কর্তৃক দেওয়া সংবর্ধনায় বক্তব্য : সম্মানিত সুধীমন্ডলী, শরতের অপরূপ সুনীল আকাশ খন্ড কন্ড মেঘের বলাকা ভেসে যাচ্ছে। দূর হতে দূরান্তরে, আকাশের গায়েহালকা মেঘের আস্তরণ। মন্ট্রিয়েলে আকাশে বাতাসে গাইছে শ্যাম¯িœগ্ধ শরতের আগমনী গান। বাড়ীতে বাড়ীতে রাস্তা ঘাঠে বনে উপবনে নানা রকম বাহারী ফুলের সমাবেশ।
গ্লাাডিয়া, জিনিযা, ডালিয়া পেসেন্স জুঁই, বেলী গোলাপের সুগন্ধে মানুষের মন হয়ে উঠছে উতলা। এমনি সুচি¯œাত শুভ সন্ধ্যায় শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) থেকে আমাকে যে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেছে আমি জানি না আমি এর কতটুকু উপযুক্ত। এ জন্য আমি আমার গভীর অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শতদলের একটি ব্যাপক অর্থ আছে- এস মা, এস ভাই, এস বোন- আমরা কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে হাতে হাত রেখে দেশের জন্য কিছু করি।
বাংলাদেশ থেকে যে সব মা-বোনেরা নতুন এসেছেন এই মন্ট্রিলে, তাদের গড়ে নেওয়ার জন্য শতদল মহিলা সমিতি কর্তৃক যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেমন- ইংলিশে কথা বলা, সেলাই শেখানো ও জনহিতকর কাজে প্রলুদ্ধ করা। এগুলো মূলতঃ একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ। তাদের এই নিবেদিত প্রাণমরণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এমন দৃঢ়তার কথা মন্ট্রিলের আর শুনেছি বলে মনে হয় না। এ যে মহান ব্রত মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা।
মানুষের কল্যাণে সংসারের শত বিঘœকে দূরে ঠেলে দিয়ে ক্ষমা সুন্দর মনে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের ও দশের জন্য নিজেকে বিলীন করে দেওয়া আত্মশুদ্ধি ও আত্মত্যাগ ও আত্মনিষ্ঠার বিরল দৃষ্টান্ত। শতদল মহিলা সমিতির বিপুল আকাংকা দেখে আমাকে মাদার তেরেসার কার্যক্রমের সেবার আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আমাদের সকলেরই জানা বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ এলাকা। বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের জীবন যাত্রা বিপর্যয় করে তুলেছে। চারদিকে মানুষের আহাজারি। ত্রাণের জন্য আকুতি। গোটা দেশ স্মরণকালের ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী ঢাকার অলিগলি ধীরে ধীরে প্লাবিত হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। দুর্গত মানুষের অভাব দেখা দিয়েছে। আশা করি শতদল মহিলা সমিতি (কুইবেক) তাদের সেবার হস্ত বাংলাদেশের জন্য দু’হাত বাড়িয়ে দিবে।
(চলবে——–)
