গলাচিপায় কাঠ মিস্ত্রির অসহায় জীবন যাপন
বঙ্গবন্ধুর কাজ করেও ভাগ্য খোলেনি (!)

পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলায় প্রবীণ কাঠ মিস্ত্রি পরিবার নিয়ে অসহায় জীবন যাপন। আচল অবস্থায়ও নিজের পরিবারের খরচ যোগাতে চুক্তি ভিত্তিক আসবাপত্রের কাজ করে বলে জানা গেছে।
পরিবার ও একান্ত সাক্ষাতকারে জনা যায়, উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৫ ওয়ার্ড কালীরচর গ্রামের মৃত রাম চরন মিস্ত্রি এর ছেলে লক্ষ্মণ চন্দ্র মিস্ত্রি ঢাকার ফার্নিচার ও বাসাবাড়ির কাঠের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাঁর হাতের নিখুঁত কারুকাজের সৌন্দর্য দেখে সহজেই সকালের মন আকৃষ্ট করত। শৈল্পিক কাজের সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামীদামী লোকের বাড়ির আসবাবপত্র তৈরী করে দিয়েছেন। আর এই সূত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে ঢাকার অধ্যক্ষ মোঃ বাদশা খায়রুল সাহেবের সাথে। তার সহোযোগিতায় শেখ পরিবারের কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। শেখ কামাল সাহেবের ঠিকেদারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক সাইড এর কাঠের কাজ সমাপ্ত করেছেন কিন্তু সমাপ্ত করতে পারেনি ঐ পরিবারের পারিবারিক আসবারপত্রের কাজ। ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগষ্টে ঘাতকদের নীল নকশার কারনে তার স্বপ্ন পুরান হতে দেয়নি ঘাতকরা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার নির্মিত ছোপায় না বসাতে পেরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
কানে ভাড় সোনা ৮৫ বয়সী লক্ষ্মণ চন্দ্র মিস্ত্রি আবেগ জড়িত কন্ঠে বলেন, প্রিন্সিপাল বাদশা খায়রুল সাহেব শেখ মুজিবের (রাজার) ছোপা বানাইতে নিয়া যায়। চৌদ্দ-পনের দিন ধানমন্ডি তার (রাজার) বাড়িতে যাইয়া কাজ করছি। বিশ্বোইত বার (বৃহস্পতি বার) রাস পূর্নিমার দিন গুলির শব্দ শুনি। ভয়তে আর ঐ বাড়িতে কাজে যাইতে সাহস পাইনায়। এহন আমার খবর কে রাহে, রাজা (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাইছা থাকলে আমরা ভাল থাকতাম।
