ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন, ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন
ভোলার চরসামাইয়ায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ॥ পাল্টা-পাল্টি মামলা
(ফাইল ছবি)

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার চরসামাইয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ৪জন আহত হয়। গত ২৭/১২/২০ ইং তারিখ আনুমানিক বিকাল ৪ টার সময় এই ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মারা মারির ঘটনায় পৃথক পৃথকভাবে কোর্ট এবং ভোলা সদর থানায় পাল্টা পাল্টি মামলা করা হয়।
ঘটনা সুত্রে জানা যায়, চর ছিফলি ৩ নং ওয়াডের মেম্বার ফেরদৌস এর ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া মাদিয়াহর সাথে দোলনায় উঠা-নামাকে কেন্দ্র করে রায়হান মল্লিক এর ৪র্থ শ্রেনীর মেয়ে প্রথমার সাথে হাতা হাতির ঘটনা ঘটে। এই হাতা হাতিকে কেন্দ্র করে দুই অভিভাবকদের মধ্য সংঘর্ষের ঘঠনা ঘটে। এক পর্য়ায় প্রথমার বাবা রায়হান স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার এর মেয়ে মাদিয়ার গলা টিপে ধরলে মাদিয়ার চাচা মনিরুল ইসলাম ভাতিজিকে রায়হান এর কাছ থেকে উদ্ধার করতে আসলে রায়হানের নেতৃত্বে অজ্ঞাত আরো কয়েকজন দৌড়ে এসে মাদিয়া ও তার চাচা মনিরুল ইসলাম ব্যাপক মারধর করে। স্থানীয়রা ঘটনা স্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসা করান। হাতা-তাহির ঘটনায় রায়হান বাদি হয়ে ভোলা সদর থানায় ২৭/১২/২০ ইং তারিখে ৪ জনের নামে মামলা করেন। যাহার নং-৫৯/৭৬৯।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মাদিয়ার চাচা মনিরুল ইসলাম গত ২৮/১২/২০ইং তারিখে বাদি হয়ে ভোলা কোর্টে ২ জন নাম উল্লেখসহ অজ্ঞনামা আর ২/৩ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। যার নং- এম পি নং ৪২৮।
এ ব্যাপারে মাদিয়ার চাচা মনিরুল ইসলাম বলেন, আসামীগন বাড়ির উঠানে আসিয়া গালি গালাজ করিলে আমার ভাইর ছেলে হাসিব (১৪) প্রতিবাদ করিলে আসামিগন এলোপাথারী কিল ঘুষি মারিয়া ফুলা জখম করে এবং হত্যা করার উদ্দেশ্যে গলা টিপে চাপিয়া রাখিলে আমি ও আমার স্ত্রী আখি আসামীদের কবল হইতে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে আসামিরা তখন আমাকে ও আমার স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করে। এ সময় আসামিরা আমার স্ত্রীর গলার চেইন টেনে ছিরে নিয়ে যায় এবং উল্টা আমাদের নামে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ভাবে আমার ভাই ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার, তার ছেলে হাসিব এর নামে মামলা করেন। ঘটনার দিন আমার ভাই ৪টার সময় বাড়িতে ছিলেন-ই না। সে তখন ভোলা শহরের চক মার্কেটে ছিলেন। অথচ তাকে ১ নং আসামি করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন রায়হান।
এদিকে চরসামাইয়ার চরছিফলির ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফেরদৌস বলেন, আমার মেয়ে ও রায়হানে মেয়ের সাথে দোলনায় উঠা-নামাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য তার ভাই জনপ্রসাশন মন্ত্রনালয় চাকরি করার কারনে ওই ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি আমাকে ১ নং আসামি করে আমার ভাই মনিরুল ইসলাম, আমার ছেলে হাসিবকে আসামি করে ভোলা থানায় মামলা করেন। অথচ ২৭/১২/২০ ইং তারিখ বিকালে আমি ভোলা সদরের চক মার্কেটে ঘরের রং কেনার জন্য কে বি দোকানে ছিলাম। প্রয়োজনে সেই সময়ের ভিডিও ফুটেজ দেখলে বুজতে পারবেন। কিন্তু সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমাকে জরিয়ে মামলা করে সমাজের লোকজনের কাছে অপদস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইউপি মেম্বার আরো বলেন, এই রায়হান জেলা পরিষদে চাকরি করেন। তার ভাই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় চাকরি করার সুবাদে গ্রামের সহজ সরল মানুষদের নামে ইচ্ছা করলেই মামলা দেন এবং হামলার হুমকি দেন। তিনি আরো জানান, রায়হান একজন দুষ্ট ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। তারে নামে ভোলা থানায় তিনটি বিষ্ফোরক মামলা আছে। যাহার মামলা নং জি আর ১৮/১৩, জি আর-২০/১৩, জি আর ১৬/১৩। ইউপি সদস্য ফেরদৌস জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে এর বিচার দাবি করেন।
ইউপি সদস্য ফেরদৌস বলেন, রায়হান মল্লিক এর ভাই ক্ষমতাধর ব্যক্তি হওয়ায় তিনি বিভিন্ন লোকমুখে বলে বেড়ায় আমাকে ঢাকাতে বিভিন্ন মামলায় আসামি করে জেল খাটাবে এবং আমাকে ঢাকা নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। আমি নীরুপায়। আমার জীবন এখন হুমকি স্বরুপ হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনসহ দলীয় নেতাদের বিষয়টি অবগত করি। রায়হান এর মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী বাহিনী থেকে বাঁচতে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে রায়হানের মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, দোলনায় উঠা-নামা নিয়ে আমার মেয়ে আর ফেরদৌস মেম্বার মেয়ের সাথে হাতা হাতি হয়। পরবর্তীতে দুই পরিবারের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থানে দাড়ালে আমার স্ত্রী বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করি।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যমান মহিউদ্দিন মাতাব্বর বলেন, আমাকে ফেরদৌস মেম্বার জানান রায়হান মল্লিক এর মেয়ের সাথে দোলনায় উঠা নামাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে ঝগড়া হয়। আমি বিষয়টি শুনার পর রায়হানকে বলেছি আপনারা নিজেরা নিজেরা মিলে যান। তারা না মিলে উভয়-ই মামলায় জরিয়ে যান। তাই সমাধান করতে পারি নাই।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েতন হোসেন জানান, রায়হানের স্ত্রী খালেদা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। যাহার নং-৫৯/৭৬৯। ওই মামলায় ফেরদৌস মেম্বারেরা কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসেন। এছাড়া ফেরদৌস মেম্বাররাও কোর্টে অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন সেটিও তদন্তধীন আছে।
