সর্বশেষঃ

বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়কের গাছের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে

ভোলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশের গাছের মালিনাকা দ্বন্দ্বে জাতীয় মহাসড়ক ৩০ ফুট প্রশস্তকরণ কাজ থমকে আছে। প্রায় শত কোটি টাকার ওই কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করার কথা। ৬ মাস আগে কার্যাদেশ পাওয়া ওয়াইস্টার ট্রেডিং এন্ড রানা বিল্ডার্স জেবি সোমবার ভোলার ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় কাজ শুরু করতে গিয়ে ফের বাধাঁর মুখে পড়ে। সড়কের পাশের গাছের মালিকানা নিশ্চিত না হতে গাছ অপসারনে বাধা সৃস্টি করছে স্থানীয় সামাজিক বনায়নে সম্পৃক্ত উপকারভূগীরা।
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, ১৮ ফুট চওড়া রাস্তা ৩০ ফুটে উন্নীত করা হবে। এ জন্য ভেদুরিয়া ফেরিঘাট থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশ থেকে গাছ অপসারণ করার জন্য বন বিভাগকে চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে বন বিভাগ গাছ চিহ্নিত করে অপসারনে টেন্ডার আহ্বান করে। ৩ মাস আগে কার্যাদেশ পেয়ে ৪৯ লট গাছ অপসারণ করতে শুরু করেন ঠিকাদার গালিব ইবনে ফেরদৌস।


সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন জানান, ২০১২ সালে তারাই রাস্তার পাশে গাছ লাগিয়ে ছিল। গাছের মালিক তারা। আর এই গাছের মালিকানা দাবী করে হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করে। যার নম্বর ৪২১৯-২০২০ এবং মহামান্য হাইকোট “বরিশাল-ভোলা-লক্ষ্মীপুর জাতীয় মহাসড়কের ১ম কি.মি. হতে ৯ম কি.মি.এবং ১০ম কি.মি. হতে ১৮তম কি.মি. এলাকায় গাছ কর্তনের বিষয়ে ভোলা বন বিভাগ কর্তৃক আহ্বানকৃত দরপত্রের মাধ্যমে উল্লিখিত মহাসড়কের গাছ বিক্রয়ের বিপরীতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। উক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে বন বিভাগ সরকারের পক্ষে একটি সিভিল মিস কেইস দায়ের করে। যার নম্বর ৪৫৭-২০২০। দায়েরকৃত উক্ত মিস কেইস এর বিপরীতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের এ্যাপিলাইড ডিভিশন একটি আদেশ প্রদান করেন। বর্ণিত আদেশের মর্মানুযায়ী বন বিভাগ লিভ টু আপিল দায়ের করে যার নম্বর ১৩৩৯-২০২০। এদিকে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারনে বন বিভাগের ঠিকাদারগন ওই গাছ কর্তন করতে পারছেনা।
অপরদিকে ওই গাছের উপকারভোগীদের পক্ষে মো: জামাল মোল্লা লিখিত এক অভিযোগে জানান, গত ১৫ নভেম্বর থেকে রাস্তার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ভেদুরিয়া ফেরিঘাট হতে হাওলাদার হাট পর্যন্ত স্ট্রীপ বাগানের গাছগুলো ভেঁকু দিয়ে উপড়ে ফেলা হয় এবং স্থানীয় জনসাধারণ গাছ এবং ডাল-পালাগুলো যে যার মত নিয়ে যাচ্ছে। এই গাছগুলো যদি লোপাট হয়ে যায় তা হলে গাছের উপকারভূগীসহ বনবিভাগ তথা সরকার ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অন্যদিকে আদালতের আদেশ অবমাননা করা হবে বলেও মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।


অপরদিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: তৌফিকুল ইসলাম জানান, ২০১০ সালে সড়ক বিভাগের অনুমতিতে সবুজ বেষ্টুনী প্রকল্পের অধিন বন বিভাগ এই সব গাছ লাগায়। ফলে গাছ কেটে নেয়ার এখতিয়ার তাদের।
সমাজ উন্নয়ন সংস্থার দাবি অযৌক্তিক বলে জানান, উপজেলা রেঞ্জ অফিসার মোঃ কামরুল ইসলাম। ফলে এমন বিরোধে একদিকে থমকে গেছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। অপরদিকে রাস্তার পাশের কয়েক হাজার গাছের মালিকানা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ভোলা সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী জানান, বর্তমান সড়কের দু’পাশে ৬ ফুট করে ১২ ফুট চওড়া করার কাজ এ মুহুর্তে শুরু না হলে আগামী বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ন কাজ শেষ করা যাবে না। একই সঙ্গে ইলিশা থেকে চরফ্যাশন পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে চড়া করার কাজ শুরু হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।