সর্বশেষঃ

জীবনের ডায়েরী থেকে গল্প সমগ্র ॥ পর্ব-৩৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত সংখ্যার পর) : কুমারের মনে শান্তি নেই। কি করে সেই কৃষাণীকে আনা যায়। তার ঐশ্বর্যকে করেছে সে পদাঘাত। তাচ্ছিল্য করেছে তার প্রেমকে। এত তার দেমাগ ? এত তার অহংকার ? কুমার বাহাদুর রাজ্যে তার প্রিয় সহচরদের ডেকে নিয়ে গেল তার ঘরে। কি করে সেই কৃষাণীকে আনা যায়। তার কয়েকজন অন্তরঙ্গ সহচর বললো- কুমার আমরা পারব এই কৃষানীকে স্বামীর বুক থেকে ছিনিয়ে আনতে। এই মন্তব্য নিয়ে তারা ঘরের পানে ফিরে চলল।
গভীর রাত, কৃষাণ কৃষাণী ঘুমিয়ে আছে গভীর ঘুমে। সুন্দর ছোট্ট বাচ্চাটি মার স্তন মুখে দিয়ে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্ন। মাটির ঘর, ছনের ছাউনি, হালকা দুয়ার, মাটির পিলসুজে মাটির প্রদীপ জ্বলছে। প্রদীপের চেয়েও কৃষাণীর ঘরে ঢুকে পড়ল। দেখল মাটির ঘরে ঘুমায় স্বর্গের প্রতিমা। সুন্দর মুখের পরে লাল সিঁদুরের ফোঁটাটা আরো সুন্দর লাগছে। আলতা রাঙ্গা রংয়ের মাঝে সামান্য শাড়িতেও কত সুন্দর মানিয়েছে। কোথায় লাগে হীরা মুক্তা পান্না, জহরত। ভগমানের সৃষ্টির কাছে এদের কোন দাম নেই। নিস্তব্ধ হয়ে ওরা এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল। আরো দেখল মার কোল জুড়ে আছে একটি সুন্দর ফুল। হাঁসিমাখা সে মুখখানা যেন মা যশোদার কোলে শ্রীকৃষ্ণ। তবু তবু মনে পড়ে গেল কুমারের প্রতিশ্রুতির কথা।
কৃষাণী ডান কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছে, ডান হাতের উপরে আছে ছেলেটি, বাম হাতটা কৃষাণের বুকের ওপর আলগোছে পড়ে আছে। হাতের আঙ্গুলগুলো কাঠাল চাঁপার মতো। বাহুখানা কেমন নিটোল, নধর ধরতেও কেমন সংকোচ হয়। তবুও দুর্বৃত্তরা এসে প্রথমেই কৃষাণীর মুখ বেঁধে ফেলে, কৃষাণের বুকের উপর ধরল উদ্যত ছোরা। কৃষাণীকে কাঁধে ফেলে তারা চললো রং মহলের দিকে।
তখনও সবে পুবের আকাশ একটু একটু আলো হয়ে আসছে। রং মহলের বাতিগুলো তখনও নেভেনি। লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি বিভিন্ন আলোয় শোভা বর্ধন করেছে। হাসনা হেনা তখন আর সুবাস ছড়াচ্ছে। শিউলি টুপটাপ করে একটা একটা করে ঝরে পড়ছে আর তার হালকা গন্ধে মনপ্রাণ কেমন আনচান করে উঠছে।
কুমার তাকিয়েছিল আরো দূরে- যেখানে আকাশের শেষ সীমানা এসে থেমেছে মাটির বুকে। পাইন গাছগুলি কেমন নির্ভীক প্রহরীর মত যেন তাকে অভয় দিচ্ছে। শুকতারাগুলো আস্তে আস্তে দূর আকাশের কোলে কেমন সরে সরে যাচ্ছে। রাতজাগা পাখি আর্তনাদ করে ডেকে উড়ে চেলে গেল। সোনার খাচায় ময়না ডেকে উঠে- এ কি করলে ? এ কি করলে ? এ ডাকে যেন কুমারের মন কেপে উঠল, ভাবল, না ও কিছু না। বাহির থেকে জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা পড়ল; কুমার দরজা খোল, দরজা খোল।

 

(চলবে——–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।