সর্বশেষঃ

চরফ্যাশন আদালতে ঘুষের প্রতিবাদ করায় আইনজীবীর ওপর হামলা

ভোলার চরফ্যাশন আদালতে ঘুষ চাওয়ার প্রতিবাদ করায় আইনজীবির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত আইনজীবি চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনা সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটাযর দিকে ঘুষের প্রতিবাদ করায় চরফ্যাশন বারের বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুন ফরাজীর উপর হামলা করেছেন চরফ্যাশন আদালতের পেশকার আজাদ ও ফেরদৌসের নেতৃত্বে ঘুষখোর কর্মচারীরা। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাডভোকেট হারুন ফরাজীকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত অ্যাডভোকেট হারুন ফরাজী অভিযোগ করে বলেন, চরফ্যাশন আদালতের পেশকার পিয়ন সহ সকল কর্মচারীদের কাছে এখানকার আইনজীবী সহ সকল বিচারপ্রার্থীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। বুধবার আমি একটি মামলার জামিনের আবেদন করবো। তাই মামলা নম্বর নিয়ে আমার মহরারকে আদালতে পেরণ করি। মামলার নথি বাবদ আমার মহরারের কাছে পেশকার আজাদ ও ফেরদাউস ৫ শত টাকা দাবী করেন। তখন মহরার তাদেরকে ২ শত টাকা দেওয়া হলে তারা আমার মোহরারের সাথে খারাপ আচরন করে এবং তাকে নথি না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পরে আমি গিয়ে পেশকার ফেরদাউস ও আজাদকে বলি আপনারা সরকারি বেতন পান তারপরও আপনাদের কে এত টাকা দিতে হবে কেন ? এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার ওপর এলোপাথাড়ি ভাবে হামলা চালায়। তাতে আমি মারাত্মক আহত হই। এসময় স্থানীয়রা এসে আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ব্যাপারে চরফ্যাশন বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। সকল আইনজীবীরা মিলে এজাহার লিখে থানায় জমা দিয়ে এসেছি। ওসি সাহেব আমাদেরকে মামলা এফআইআর করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। অ্যাডভোকেট হারুন ফরাজীর উপর হামলার ঘটনায় সকল আইনজীবীরা জরুরী সভা করেছে । সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
এবিষয়ে চরফ্যাশন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুল আরেফিন জানায়, উভয়ের মধ্যেই হাতাহাতি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আহতরা চরফ্যাসন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষরেই অভিযোগ পেয়েছি।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলা জজ আদালতের জেলা ও দায়রা জজ ড. এবিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। আমি এই প্রথম আপনার কাছে শুনলাম। উক্ত ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।