ভোলায় লিটল ফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন
দুই হাতে রঙিন চুড়ি, ভাঙা হাতের চিকিৎসা নেই মনেজা খাতুনের

আরিফুল ইসলাম রিয়াজ, ভোলার বাণী ।।মনেজা খাতুনের বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই, নেই স্বামীও। এক মেয়েকে নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে জীবনসংগ্রাম করে দিন পার করছেন তিনি। থাকেন ভোলা সদর উপজেলার মহিলা মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায়। এর বেশি নিজের জীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই বলতে পারেন না তিনি।
অভাবের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে মানসিক ভারসাম্যও হারিয়েছেন মনেজা। জীবনের অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাঁর দুই হাতজুড়ে নানা নকশার রঙিন চুড়ি। আঙুলে পরেন আংটি। কোথা থেকে এসব চুড়ি-আংটি পেয়েছেন, জানতে চাইলে জানান, মানুষের কাছে চেয়ে নিয়েছেন।
তবে রঙিন চুড়িতে ঢাকা হাত দুটির একটিতে লুকিয়ে আছে যন্ত্রণার গল্প। তাঁর বাঁ হাতটি ভাঙা। প্রয়োজন চিকিৎসার, কিন্তু সেই চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই তাঁর। কীভাবে হাত ভেঙেছে, কোথায় ছিলেন, কীভাবে দিন কাটে—এসব প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেন না তিনি।
মনেজা খাতুনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে জীবনের নানা প্রশ্নের উত্তর না মিললেও তাঁর অসহায়ত্ব যেন নীরবেই ধরা দেয়। নিজের কষ্টের কথা হয়তো গুছিয়ে বলতে পারেন না, কিন্তু মানুষের প্রতি তাঁর শুভকামনায় কোনো কমতি নেই।
কথা শেষে বিদায় নেওয়ার সময় তিনি বললেন, “ভালো থাইকেন, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক।”
কথাগুলো সাধারণ মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অসহায় মানুষের অকৃত্রিম মমতা। যাঁর নিজের জীবনেই ভালো থাকার নিশ্চয়তা নেই, তিনিই অন্যের ভালো থাকার জন্য দোয়া করেন।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—মনেজা খাতুন নিজে কি ভালো আছেন? ভাঙা হাত নিয়ে, অনিশ্চিত আশ্রয়ে, অভাবের সঙ্গে লড়াই করে তাঁর দিনগুলো কীভাবে কাটছে? তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে কে? পাশে দাঁড়াবে কে?
সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের কষ্ট চোখের সামনে থাকলেও তাঁদের খোঁজ নেওয়ার মানুষ খুব কম। মনেজা খাতুনও তাঁদের একজন। তাঁর প্রয়োজন শুধু সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা।
মনেজা খাতুনের মতো অসহায় মানুষদের ভালো থাকার দায়িত্ব কি শুধু তাঁদের নিজেদের? নাকি আমাদের সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও কিছু করার আছে?
যাওয়ার সময় মনেজা খাতুন অন্যের মঙ্গল কামনা করেছেন। এখন তাঁর নিজের ভালো থাকার জন্যও কেউ এগিয়ে আসুক—এটাই প্রত্যাশা।
