মশার কামড়ে অতিষ্ঠ ভোলা, কাগজে ৪১ লাখ টাকার ‘নিধন’

ভোলা পৌর এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মশার উপদ্রব। বিশেষ করে বিকেল হলেই বিভিন্ন এলাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। মশার কামড়ে জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে অনেকের। এমন পরিস্থিতিতে মশা নিধনে পৌরসভার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত ওষুধ ছিটানোর মতো কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। তাদের দাবি, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে এক-দুবার ফগার মেশিনে ধোঁয়া ও ওষুধ ছিটানো হলেও এরপর নিয়মিত কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক ড্রেনে দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে ময়লা ও নোংরা পানি। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে পড়ে আছে বর্জ্য। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় তৈরি হয়েছে মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে অনেক পরিবারকে ঘরে সারাদিন কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় একাধিক কয়েল ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে রেহাই মিলছে না বলে জানান পৌরবাসী।
ভোলা জেলা সুজনের সভাপতি মোবাশ্বেরউল্লাহ চৌধুরীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় নাগরিকদের নিজেদের উদ্যোগেই মশার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে।
এদিকে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মশা নিধনের জন্য ভোলা পৌরসভা ৪৫ লাখ টাকা বাজেট করে। এর মধ্যে কাগজে-কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪১ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা। অথচ মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম দৃশ্যমান না থাকায় ওই অর্থের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পৌরবাসী। তবে এটিকে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ হিসেবে নিশ্চিত না করে, ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে জবাবদিহির দাবি উঠেছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশা নিধনের জন্য আরও ১৮ লাখ টাকা বাজেট রাখা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা।
অভিযোগের বিষয়ে ভোলা পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেলাল হোসেন বলেন, গত অর্থবছরের মশা নিধনের ওষুধ এখনও মজুত রয়েছে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর যতটুকু তথ্য পেয়েছেন, নিয়ম মেনেই ওষুধ কেনা ও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু সময় কার্যক্রম কম হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। আগামীতে মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান পৌর প্রশাসক।
পৌরবাসীর দাবি, ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে দ্রুত ফগার মেশিনে ধোঁয়া দেওয়া, কার্যকর ওষুধ ছিটানো, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা পানি ও বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি মশা নিধনে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে নিয়মিত কার্যক্রমের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
