সর্বশেষঃ

চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ছেলেকে মারধর, দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ

চরফ্যাশন প্রতিনিধি : 

ভোলার চরফ্যাশনে দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দিয়ে চাঁদার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান খুলতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের সাহেবের হাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত কিশোর মো. শিহাবকে (১৪) উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে চরফ্যাশন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিহাবের মা সুমা বেগম (৪০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাহেবের হাট বাজারে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন মো. আলী হোসেন (৫০)। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে তাঁর। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে কুলসুমবাগ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাসিম পালোয়ানের ছেলে মো. সুমন ওরফে শাহিন পালোয়ান (৩৩) এক পক্ষের হয়ে আলী হোসেনের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আলী হোসেনের দাবি, চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।

আলী হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ছেলে শিহাবকে নিয়ে দোকানে বেচাকেনা করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে সুমন ওরফে শাহিন পালোয়ানের নেতৃত্বে শিমুল (৩০), মনোয়ার (৪০), সিয়াস উদ্দীন (৩৩)সহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দোকানে আসেন। তাঁরা আগের দাবিকৃত চাঁদার টাকা চান।

আলী হোসেন বলেন, ভয়ে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে যান। পরে তাঁকে না পেয়ে অভিযুক্তরা তাঁর ছেলে শিহাবকে লোহার রড দিয়ে মাথায় এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। এতে শিহাব রক্তাক্ত জখম হয়। পরে অভিযুক্তরা দোকানে তালা দিয়ে চলে যান এবং চাঁদার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত দোকান খুলতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাঁর।

পরিবারের সদস্যরা পরে আহত শিহাবকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সুমন ওরফে শাহিন পালোয়ান। তাঁর দাবি, আলী হোসেনের পরিবারের সঙ্গে অন্য একটি পক্ষের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তিনি ওই বিরোধে এক পক্ষের হয়ে সালিস করেন।

সুমন বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাহেবের হাট বাজারে গেলে আলী হোসেনের ভাই আমির হোসেন তাঁকে দেখে তাঁর ভাইদের নিয়ে এসে মারধর করেন। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে পরে সাহেবের হাট বাজারে গেলেও আলী হোসেন বা তাঁর পরিবারের কাউকে সেখানে দেখেননি। আলী হোসেনের ছেলেকে কে বা কারা মারধর করেছে এবং দোকানে কে তালা দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুল হক ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।