দীর্ঘদিন ধরে অচল মনপুরার একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি, ভোগান্তিতে রোগীরা

আব্দুর রহমান সোয়েব, মনপুরা ॥
মেঘনা নদী বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস এই দ্বীপে। অথচ জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। ফলে রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নির্ভর করার মতো বর্তমানে কোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক সময় বিকল্প যানবাহনের আশ্রয় নিতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
মনপুরার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও চরাঞ্চল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ সাকুচিয়া, রামনেওয়াজ,চর কলাতলীসহ দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে ভ্যানগাড়ি, অটোরিকশা বা অন্যান্য অনুপযোগী যানবাহনে করে হাসপাতালে আনতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনরা। শুধু অ্যাম্বুলেন্স সংকটই নয়, উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল অবস্থাও রোগী পরিবহনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা-সব মিলিয়ে জরুরি রোগী পরিবহন হয়ে উঠেছে সময়সাপেক্ষ ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের ভাষ্য, রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনেক সময় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ আবুল কালাম বলেন, রাতে কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয়। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল না থাকায় অনেক সময় ভ্যান বা অন্য যানবাহনে করে রোগী আনতে হয়। দূরের পথ আর ভাঙা রাস্তার কারণে রোগীর কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
রামনেওয়াজ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছাঃ রহিমা বেগম বলেন, গর্ভবতী নারী কিংবা বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে নিতে খুব কষ্ট হয়। একটি দ্বীপ উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স না থাকা আমাদের জন্য বড় সমস্যা। দ্রুত একটি সচল অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত মেরামত অথবা নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি রোগী পরিবহন সহজ করতে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নও জরুরি।
মনপুরার মতো একটি দ্বীপাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। একটি সচল অ্যাম্বুলেন্স অনেক সময় জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমরা অবগত। প্রায় ১৫ দিন আগে অ্যাম্বুলেন্সটি সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর ইঞ্জিন মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মেরামত শেষে ফিরে আসতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। মনপুরার জন্য নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
মনপুরাবাসীর প্রশ্ন-জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? একটি সচল অ্যাম্বুলেন্স ও উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা কি এই দ্বীপের মানুষের ন্যায্য অধিকার নয় ?
