পরিবেশ সংরক্ষণে চরফ্যাশনে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় পৌরসভা এলাকা এবং বেতুয়া লঞ্চঘাট যা স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য স্থান। সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে দূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে পরিছন্নতা কর্মসূচি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এর সার্বিক সহযোগীতায় এবং নরওয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ক্লিন আপ (পরিচ্ছন্নতা) কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হযেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে কোস্ট ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক টিম লিডার, রাশিদা বেগমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ডা. নূরুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম।
অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিডোর জাতীয় বিশেষজ্ঞ এমএম আরাফাত, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজ্ দিলরুরা আক্তার, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সংস্কৃতি কর্মী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, নির্ভর ফাউন্ডেশনের সেচ্ছাসেবক, রেডক্রিসেন্ট, স্কাউট এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি মুহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের অযাচিত ব্যবহার, অপ্রয়েজনীয় ব্যবহার এবং রিসাই ক্লিন না করার কারণে প্লাস্টিক পরিবেশে ছড়িয়ে পরেছে। প্লাস্টিক প্রতিরোধে সরকারি ভাবে ৩৩ মোবাইল কোর্ড পরিচালন করে জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানা বা আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে জন সচেতনতা সর্বত্তম বলে মনে করেন তিনি।
প্রধান অতিথি ডা. নূরুন নাহার বলেন, আমরা প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে আনতে তরুন প্রজন্ম অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তোমরা যত বড় হও, যেখানেই যাও প্লাস্টিক ব্যবহারের বিষয় সচেতন থাকবে। এই পরিচ্ছন্নতার কাজ আজই শেষ নয় বরং প্রতিদিনের কাজ এটি আমাদের।
সেমিনার শেষে ক্লিন আপ প্রোগ্রাম শুরু হয়। সকল অংশগ্রহণকারীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টেকশই প্লাস্টিক পণ্যের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় পরিচ্ছন্ন ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নদীবন্দর পরিছন্নরাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিক ও অন্যান্য কঠিন বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার কারণে এসব এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
