আটঘরিয়ায় স্ট্রবেরি বাগানে দুই তরুণের স্বপ্ন

পাবনা সংবাদদাতা ॥
পড়ালেখার পাশাপাশি ইউটিউব দেখে স্ট্রবেরি চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার দুই শিক্ষার্থী নুর ইসলাম ও আউয়াল। বেকারত্বকে জয় করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেছেন বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হিদাসকোল গ্রামের ওই বাগানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো স্ট্রবেরি গাছ। গাছে গাছে সাদা ফুল আর টুকটুকে লাল পাকা ফল ঝুলছে। বাগানে কাজ করছেন দুই শিক্ষার্থী নিজেই। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ ফল সংগ্রহ করছেন। বাগান ঘিরে স্থানীয় মানুষের কৌতূহলী ভিড়ও চোখে পড়ে।
দেশীয় ফল হিসেবে স্ট্রবেরির প্রচলন তুলনামূলক কম থাকলেও বর্তমানে দেশে এর ব্যাপক চাষ হচ্ছে। চাহিদা, ফলন ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও আগ্রহী হচ্ছেন এ ফল চাষে। আকর্ষণীয় বর্ণ, মনোমুগ্ধকর গন্ধ, সুস্বাদু স্বাদ ও উচ্চ পুষ্টিমানের কারণে স্ট্রবেরি ব্যাপক সমাদৃত। সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ বৃদ্ধিতেও এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শিক্ষার্থী নুর ইসলাম বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি আমরা দুই বন্ধুর মাথায় আসে স্ট্রবেরি চাষের চিন্তা। ইউটিউব দেখে কীভাবে চাষ করতে হয় সে সম্পর্কে ধারণা পাই। পরে বাড়ির পাশের এক কৃষকের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা দিয়ে ১৮ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে চাষ শুরু করি। তিনি জানান, ভাদ্র মাসের প্রথম দিকে চাষের প্রস্তুতি নিতে হয়। পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর দিয়ে ৫-৬ বার চাষ করে জমির মাটি ঝরঝরে করা হয়। এরপর সার, গোবর ও ক্যালসিয়ামসহ প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করে জমি প্রস্তুত করা হয়।
তাদের হিসাবে, বিঘাপ্রতি স্ট্রবেরি চাষে খরচ হয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ হতে পারে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।
অপর শিক্ষার্থী আউয়াল বলেন, মৌসূমের শুরুতে গাছে সাদা ফুল ফোটে। পরে হলুদ রঙের ছোট ফল ধরে এবং পরিপক্ব হলে টুকটুকে লাল রং ধারণ করে। উইন্টারডন জাতের একটি চারা গাছ থেকে মৌসুমে কমপক্ষে দুই কেজি ফল পাওয়া যায়। গাছে যে পরিমাণ ফল ধরেছে, তাতে খরচ বাদ দিয়ে মোটা অঙ্কের লাভের আশা করছি।
স্ট্রবেরি বাগান দেখতে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। অনেকেই গাছ থেকে নিজ হাতে ফল ছিঁড়ে খাচ্ছেন। এতে এলাকায় স্ট্রবেরি চাষে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
রাকিবুল ইসলাম নামে এক দর্শনার্থী বলেন, তাদের বাগান দেখে ভালো লেগেছে। নিজ হাতে স্ট্রবেরি ছিঁড়ে খেয়েছি। স্বাদ বেশ ভালো। আমিও স্ট্রবেরি চাষ করার কথা ভাবছি।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, স্ট্রবেরি উচ্চমূল্য ও পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল। রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। উচ্চ ফলনশীল জাত বাণিজ্যিকভাবে চাষ করলে বেকারত্ব দূর করা এবং পুষ্টি ঘাটতি পূরণ-দুই-ই সম্ভব।
তিনি আরও জানান, সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্ট্রবেরির চারা রোপণ করা যায়। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে গাছে ফুল আসে এবং ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। অল্প বিনিয়োগে অধিক মুনাফার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে।
