লালমোহন-তজুমদ্দিনে পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

ভোলার বাণী রিপোর্ট ॥ পানিতে ডুবে ভোলার লালমোহন ও তজুমদ্দিনে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবি ও শনিবার এই দুই দিনে দুই উপজেলায় পৃথক পৃথক সময়ে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সন্তানদের পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। শিশু সন্তানরা কোথায় যায়, কি করে সেদিকে নজর দেয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের আরো সচেনত হতে হবে এমনটাই মনে করছেন ভোলার সচেতন মহল।
লালমোহন : আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জাহিদ দুলাল জানান, লালমোহন উপজেলায় নানাবাড়ির পুকুরের পানিতে ডুবে মোসা. সোহানা বেগম নামে ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রাঢ়ি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শিশু সোহানা বেগম পার্শ্ববর্তী বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রিয়াজের কন্যা।
জানা গেছে, সাংসারিক ঝামেলার কারণে শিশু সোহানাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন তার মা সুরমা বেগম। রোববার বিকেলে তিনি ঘরের ভেতর কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত নানার বসতঘর সংলগ্ন পুকুরে পড়ে যায় শিশু সোহানা বেগম। অনেকক্ষণ পর বাড়ির আরেক শিশু সোহানাকে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে চিৎকার দেন। তখন তার স্বজনরা গিয়ে শিশু সোহানা বেগমকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু সোহানার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে ওই শিশুর মুখের অংশে আঘাতের চিহ্ন থাকায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তজুমদ্দিন : আমাদের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার রফিক সাদী জানান, তজুমদ্দিন উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে পানিতে ডুবে দুই কন্যা শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনাগুলো ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের হাজীকান্দি গ্রামে ফজলু ও রেহানা দম্পতির ৮ বছর বয়সী কন্যা মনিফা বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। সে সময় মা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে একই দিন দুপুরে সোনাপুর ইউনিয়নের চর লাদেন এলাকার কৃষক আঃ মান্নানের ৫ বছর বয়সী কন্যা মুনতাহা মাঠ থেকে একা বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির পর তাকে পথের পাশে পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। দ্রুত ট্রলারযোগে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মুনতাহাকেও মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।