এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল

চরফ্যাশনে ২ স্কুল ও ১ মাদরাসায় কেউ পাশ করেনি

চরফ্যাশন সংবাদদাতা ॥ সদ্য ঘোষিত ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় দুটি স্কুল ও একটি মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হয়নি। পুরোপুরি ব্যর্থ এই ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় ২টি স্কুল ও ১টি মাদ্রাসার কেউ পাস করেনি। স্কুলগুলো হলো- ফরিদাবাদ জুনিয়র হাই স্কুলে, শামিম মেমোরিয়াল স্কুল ও উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসা। চরফ্যাশন পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত শামীম মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৬জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি।
অন্যদিকে, দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ফরিদাবাদ জুনিয়র হাই স্কুল থেকে ২৪ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কেউ উত্তীর্ণ হয়নি। অন্যদিকে উত্তর মাদ্রাজ মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এখানেও কেউ পাশ করেনি। ফলাফল একেবারে শূন্য-সকলেই ফেল।
এই শতভাগ ব্যর্থতা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়রা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে গুরুতর সমস্যা। শিক্ষা বিভাগকে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে-অন্যথায় ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্ষতির দায় এড়ানো যাবে না।
সর্বশেষ মাদরাসা এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর ৫ এর ৩ ধারায় বলা হয়েছে পরিশিষ্ট ‘খ’ অনুসারে মফস্বল এলাকায় দাখিল সহশিক্ষা মাদ্রাসায় নির্দিষ্ট সংখ্যক অর্থাৎ ২৫০ জন ও মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে এবং পরিশিষ্ট ‘গ’ তে বলা হয়েছে মফস্বল এলাকার একটি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হতে গেলে সেই মাদরাসায় ন্যুনতম পরীক্ষার্থী থাকতে হবে ১৮ জন এবং ৫৫ শতাংশ হতে হবে পাশের হার। এমপিও নীতিমালার ১৮ এর ‘ক’ ধারায় বলা হয়েছে, এ নীতিমালার ৫ এর (ক) ও (খ) বর্ণিত আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করলে বা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা যাবে।
এ ব্যাপারে ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে তাদের মধ্য থেকে একজনও পাশ করবে না এটা তারা মানতে পারেননি। সব যে খারাপ এমনটা নয়, তাদের মধ্যে-তো ভাল শিক্ষার্থীও রয়েছে। কিন্তু কিভাবে কি হলো তা নিয়ে তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন। এমন ফলাফলে তারা হতাশ হয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার জন্য।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, এখানে যে ২টি বিদ্যালয়ে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে সেই ২টি বিদ্যালয়ই জুনিয়র। জুনিয়র হিসেবেই এমপিভুক্ত হয়েছে। মাধ্যমিকে তাদের শিক্ষক নেই তাই তাদের ফলাফল এমন হয়েছ। পাঠদানের অনুমতি সাপেক্ষ তারা পরীক্ষা দেয়। তারপরও আমি এসব স্কুল ও মাদ্রাসা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাব, তারা সিদ্ধান্ত নিবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।