বোরহানউদ্দিনে এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য দোয়া ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
লালমোহনের ফারুক সেরাং-এর বিরুদ্ধে কৃষক পরিবারকে নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ

শাহিন কাদের ॥ ভোলার লালমোহনে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কৃষক পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার একটি অভিজাত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক আনিসুল হক গাজী এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে চর উমেদ ইউনিয়নে কচুয়ার চড়ে কৃষিকাজ ও গরু-মহিষ পালন করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক সেরাং ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে তার লিজ নেওয়া জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এসময় আনিসুল হক গাজীর অভিযোগ করেন, গত ৩ জুলাই সকালে ফারুক সেরাং এর নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার স্ত্রী রিনা বেগম (৪৮), আরেক স্ত্রী সুরমা বেগম (৫০), ছেলে আরিফ (২৯), পুত্রবধূ পিরু বেগম (২১) এবং আরেক ছেলে শাকিলকে (২২) বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এসময় তার স্ত্রী ও পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আহতরা লালমোহন ও ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা তার বাড়ি থেকে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনায় লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানান আনিসুল হক। তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষক আনিসুল হক গাজী তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নীলকমল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফারুক সেরাং এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে গেলে সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকাবার চেষ্টা করেও তাকে আর পাওয়া যায়নি বিধায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
