সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে দখলের চেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলায় আহত ১০ সাংবাদিক

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা ॥ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি শহরের পৌরদিঘীর পাড়ে অবস্থিত প্রেসক্লাবে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে একটি সশস্ত্র দল প্রেসক্লাবে প্রবেশের চেষ্টা করে। তারা বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের হটিয়ে প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের বাধার মুখে তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শাওন, আল ইমরান, অমিত কুমার ঘোষসহ অনেকে। এছাড়া লাঞ্ছিত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
আরো জানা গেছে, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি আবু নাসের মোঃ আবু সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারীর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। অভিযোগ উঠেছে, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং প্রথম আলোর প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জীর প্রত্যক্ষ মদদে প্রেসক্লাবের বাইরে থেকে বিকল্প একটি কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও বিভাজনের সৃষ্টি করা হয়। গত ১৬ মে এই বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করা হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন আবুল কাশেম ও আসাদুজ্জামান আসাদ। প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তাদের এই কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সদস্যদের যুক্ত করে ক্লাব দখলের অপচেষ্টা চলছে।
প্রথম দফার হামলার পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটলেও কিছুক্ষণ পর আবার সংগঠিত হয়ে ফিরে আসে। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ এবং সেনা টহলের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সাংবাদিক মহল ও সুধী সমাজ। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর আমাদের ক্লাবে দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধিদের সদস্যপদ দেওয়া হয়েছিল। এটাই হামলার মূল কারণ।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকতা একটি মুক্ত পেশা-তাতে রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত দখলদারিত্বের প্রবণতা স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য হুমকি। সাতক্ষীরার এই ঘটনা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
